নিউজ পোল ব্যুরো: পেট এবং মস্তিষ্কের (brain-gut connection) মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। গবেষকরা এমনকি বলছেন, পেটের অবস্থা সরাসরি মনের মেজাজের উপর প্রভাব ফেলে। যখন অন্ত্র (intestine) ঠিক থাকে, মন শান্ত থাকে, দিনের কাজও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু পেটের অস্বাস্থ্য বা গোলমাল হলে, মন-মেজাজও বিঘ্নিত হয়। পেটকে বলা হয় শরীরের ‘দ্বিতীয় মস্তিষ্ক’ (second brain)। কারণ অন্ত্র বা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ট্র্যাক্ট (gastrointestinal tract) শুধু খাবার হজম করে না, বরং তা বিশ্লেষণও করে। খাওয়া-দাওয়ার মান অনুযায়ী অন্ত্র মস্তিষ্কে (brain) বার্তা পাঠায়। যদি অপুষ্টিকর বা প্রক্রিয়াজাত খাবার (junk food) বেশি খাওয়া হয়, অন্ত্রের উপর চাপ পড়ে এবং হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তখন সেই অস্বাস্থ্যকর বার্তা মস্তিষ্কে পৌঁছে মেজাজ খারাপ করে।
গবেষকরা আরও দেখেছেন, পেটের ভিতরে ‘গাট মাইক্রোবায়োটা’ (gut microbiota) নামের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক থাকে। এতে ভাল ও খারাপ ব্যাকটেরিয়া (good and bad bacteria) বাস করে, যা হজম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এছাড়া এই ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কে সঙ্কেত পাঠাতে কিছু রাসায়নিকও তৈরি করে। যদি এই ভারসাম্য নষ্ট হয়, অন্ত্রের সমস্যা যেমন প্রদাহ, গ্যাস, অস্বস্তি দেখা দেয়। এর সঙ্গে ক্লান্তি, অবসাদ, মনোযোগের অভাব ও মেজাজের পরিবর্তনও যুক্ত হয়। পেট-মস্তিষ্ক যোগাযোগে (gut-brain communication) ভেগাস স্নায়ু (vagus nerve) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্ত্র থেকে প্রায় ৮০ শতাংশ বার্তা মস্তিষ্কে পৌঁছায় এই স্নায়ুপথে। অপর দিকে, মস্তিষ্ক থেকে ২০ শতাংশ বার্তা অন্ত্রে আসে, যা হজম ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া, সেরোটোনিন (serotonin) এর ৯০ শতাংশ উৎপাদন অন্ত্রে হয়, যা মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
পেটকে সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও আয়রন (fiber, vitamins, minerals, iron)। খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে সবুজ শাক, পালং, ব্রকোলি, বাঁধাকপি, রসুন, তাজা ফল যেমন কলা, কমলালেবু, আঙুর, পেয়ারা। ওটস, দালিয়া, ব্রাউন রাইস, বার্লি (oats, dalia, brown rice, barley) ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা হজমে সহায়ক। এদিকে জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলাই জরুরি। পেটের যত্ন নিলে মনের শান্তি, একাগ্রতা এবং শরীরের সুস্থতা—সবই আসে স্বাভাবিকভাবে। তাই পেটকে সুস্থ রাখাই মানে মনের স্বাস্থ্যকে নিশ্চিত করা।
