Indian Navy : নৌবাহিনীর শক্তির প্রদর্শন কলকাতায়, জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হল দুই যুদ্ধজাহাজ

কলকাতা

নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) দুই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রবাহী যুদ্ধজাহাজ এবার কলকাতার (Kolkata) খিদিরপুর ডকে নোঙর করল। বঙ্গোপসাগরের বুকে দীর্ঘদিন ধরে দেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলে আসা এই দুই কর্ভেট—আইএনএস খঞ্জর INS Khanjar) এবং আইএনএস কোরা (INS Kora)—এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের জন্য দু’দিনের জন্য দর্শনের সুযোগ করে দিয়েছে নৌবাহিনী (Indian Navy) । নৌসূত্রের খবর, এই দুটি যুদ্ধজাহাজ তৈরি হয়েছে গার্ডেনরিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্সে (GRSE), যা কলকাতার গর্ব। ১৯৮৮ সালে নির্মিত আইএনএস খঞ্জর ১৯৯১ সালে নৌবাহিনীর (Indian Navy) অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযানে অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছে এই গাইডেড মিসাইল কর্ভেট (Missile Corvette)।

আরও পড়ুন : Airbus A320 : সৌর বিকিরণের জেরে দেশজুড়ে বিমান পরিষেবায় বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা, সতর্ক করল এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো

খুকরি-শ্রেণির এই যুদ্ধজাহাজে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার। এতে সংযুক্ত চারটি P-20M অ্যান্টি-শিপ মিসাইল লঞ্চার, দুটি Strela-2M সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ব্যবস্থা, একটি ৭৬ মিমি AK-176 প্রধান কামান এবং দুটি ৩০ মিমি AK-630 ফাস্ট ফায়ার গান। এই AK-630 প্রতি মিনিটে প্রায় ৬,০০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও, শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান ও জাহাজ শনাক্তের জন্য রয়েছে শক্তিশালী রাডার এবং ইলেকট্রনিক নজরদারি ব্যবস্থা। প্রয়োজনে হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য বিশেষ হেলিপ্যাডও রয়েছে। আইএনএস খঞ্জরের সঙ্গে সঙ্গে আরও আধুনিক আইএনএস কোরা (INS Kora) যুদ্ধজাহাজটিও খিদিরপুর ডকে এসেছে। ১৯৯৮ সালে তৈরি এই কোরা-শ্রেণির কর্ভেটটি মূলত অ্যান্টি-শিপ মিসাইল যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে ১৬টি Kh-35 অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, যা সমুদ্রপৃষ্ঠে শত্রু জাহাজ ধ্বংসে অত্যন্ত কার্যকর।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

আইএনএস কোরা (INS Kora)-তেও রয়েছে দুটি Strela-2M SAM, একটি ৭৬ মিমি প্রধান কামান এবং দুটি ৩০ মিমি ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম। উন্নত রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট এবং অ্যান্টি-এয়ারক্রাফট ডিফেন্স ব্যবস্থার কারণে এই কর্ভেট শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম। এই দু’দিন সাধারণ মানুষ কাছ থেকে ভারতের সমুদ্রসীমা রক্ষার এই শক্তিশালী অস্ত্রগুলিকে দেখার এক বিরল সুযোগ পাচ্ছেন। নৌবাহিনীর উদ্দেশ্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে দেশরক্ষা ও নৌবাহিনীর প্রতি আরও গর্ব ও আগ্রহ তৈরি করা।