নিউজ পোল ব্যুরো: বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সম্প্রতি দলীয় নেতৃত্বকে নিয়ে একটি ‘নিরীহ’ সাংগঠনিক বৈঠকের ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে পোস্ট করেন। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণ পর সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ বোলাতে গিয়েই দেখা যায়, শমীকের সেই পোস্টে ‘লাইক’ করেছেন তৃণমূল শিক্ষক সেলের সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মইদুল ইসলাম! এতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অন্দরের জোরদার আলোচনা।
আরও পড়ুন: TMC: মমতা বনগাঁয় মহামিছিল, অভিষেক তৃণমূল বৈঠকে দেবেন পরবর্তী দিকনির্দেশনা
মইদুল ইসলামের প্রোফাইলে থাকা ডিপিতেই দেখা যায় তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সচিব সুমিত রায় এবং ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার পর্যবেক্ষক শামিম আহমেদের সঙ্গে রয়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যে নেতা সদ্য শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর ঘনিষ্ঠদের স্থানচ্যুত করে নতুন কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন, তিনি কি সত্যিই বিজেপির রাজ্য সভাপতির পোস্টে ‘লাইক’ দিতে পারেন? গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে নূতন কমিটির এই সদস্যের সম্ভাব্য যোগাযোগ নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল ‘ব্রাত্যপন্থী’ শিক্ষক নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। সেই অভিযোগেই তাদের সরিয়ে নতুন কমিটি করা হয়েছিল। অথচ নতুন কমিটিতে আসার পরই মইদুল ইসলামকে ঘিরে একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হওয়ায় অস্বস্তি বাড়ছে তৃণমূল শিবিরে।
তবে পালটা যুক্তিও উঠে এসেছে দলের ভেতর থেকেই। তৃণমূলের একাংশের দাবি শমীকের পোস্টে ‘লাইক’ করা ওই অ্যাকাউন্টটি হয়তো প্রকৃতপক্ষে তৃণমূলের শিক্ষক নেতা মইদুল ইসলামের নয়। তারা যুক্তি দিচ্ছেন, সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত একজন নেতা কেনই বা বিরোধী দলের রাজ্য সভাপতির সাংগঠনিক বৈঠকের ছবিতে প্রকাশ্যে ‘লাইক’ দেবেন? তাদের মতে, এটি হয়তো একটি fake profile, অথবা প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা কোনও চক্রান্ত, যার উদ্দেশ্য মইদুল ইসলামের ভাবমূর্তি নষ্ট করা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
এমন অবস্থায় তৃণমূলেরই এক অংশ মনে করছে—যদি এটি সত্যিই চক্রান্ত হয়, তবে সেটিও খুঁটিয়ে দেখা জরুরি। যারা ‘ব্রাত্যপন্থী’ তকমা এড়াতে সরিয়ে দেওয়া হল, তাঁদের পর নতুন দায়িত্বে আসা সদস্যকে অপমানিত করতে কেউ কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে? দলের ভিতরের এই সম্ভাব্য ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতি’ নিয়েই এখন সবথেকে বেশি আলোচনা। তদন্ত না হলে সত্যতা সামনে আসবে না ও, এমন মতই উঠে আসছে তৃণমূলের ভেতরকার বহু স্তর থেকে।
