নিউজ পোল ব্যুরো: নিউটাউনে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো ‘দুর্গাঙ্গন’ নির্মাণের কাজ এবার বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার পর টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং প্রাথমিক প্রস্তুতিও শেষ। চলতি মাসেই দুর্গাঙ্গনের ভিতপুজো অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে গত ১৫ বছরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। ভিতপুজো সম্পন্ন হলেই পুরোদমে শুরু হয়ে যাবে দুর্গাঙ্গন নির্মাণের কাজ। নিউটাউনের এই বিশাল প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে থাকছে হিডকো (HIDCO)। সূত্রের খবর, দুর্গাঙ্গন তৈরির জন্য মোট বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ২৬১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্প শুধু একটি অনুষ্ঠানস্থল নয়, বরং বাংলার দুর্গাপুজোর (Durga Puja) ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে আরও শক্তভাবে তুলে ধরার এক স্থায়ী মঞ্চ হয়ে উঠবে।
প্রসঙ্গত, বছর তিন আগে বাংলার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড ইনট্যানজিবেল হেরিটেজ’ তকমা পাওয়ার পর থেকেই একটি স্থায়ী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার ভাবনা জোরদার হয়। চলতি বছরের ২১ জুলাই শহিদ দিবসের মঞ্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) প্রথম প্রকাশ্যে নিউটাউনে (NewTown) দুর্গাঙ্গন তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। তখনই তিনি জানান, চলতি বছরের মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এবার সেই ঘোষণার বাস্তব রূপরেখাও সামনে এল। অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও জানিয়েছেন, ডিসেম্বর মাসে দুর্গাঙ্গনের ভিতপুজো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) সুবিধামতো দিনক্ষণ ঠিক করে বিশেষ নিয়ম মেনে এই পুজো সম্পন্ন হবে। তারপরই দ্রুত গতিতে এগোবে নির্মাণ কাজ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
উল্লেখযোগ্য ভাবে, চলতি বছরেই দিঘায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে বড় সাফল্য পেয়েছে। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই মন্দির পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এবং রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণের ঘোষণাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দুর্গাঙ্গন প্রকল্পও দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। জানা গিয়েছে, আগস্ট মাসে হিডকোর তরফে দুর্গাঙ্গনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। টেন্ডার চূড়ান্ত হওয়ার পর শর্ত অনুযায়ী, কাজ শুরু হলে সর্বোচ্চ দু’বছরের মধ্যেই নির্মাণ শেষ করতে হবে। ফলে সবকিছু ঠিকঠাক চললে ২০২৭ সালের মধ্যেই নিউটাউন (NewTown) পেতে চলেছে বাংলার গর্বের নতুন সাংস্কৃতিক কেন্দ্র—দুর্গাঙ্গন। এখন শুধু ডিসেম্বরের ভিতপুজোর নির্দিষ্ট দিনের দিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
