IIM Sambalpur : আইআইএম সাম্বলপুরে আই-হাব প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্‌যাপন, ওড়িশার স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মিলল নতুন গতি

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আইআইএম সাম্বলপুর (IIM Sambalpur) তার ইনোভেশন অ্যান্ড ইনকিউবেশন হাব (I-Hub)-এর প্রতিষ্ঠা দিবস উদ্‌যাপন করল প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সম্মেলন ‘নব্যযুগ ২.০’-এর মাধ্যমে। “মেড ইন ভারত: লোকাল রুটস, গ্লোবাল রুটস” থিমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান ছোট শহর ও গ্রামীণ সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার অঙ্গীকারকে তুলে ধরে। আই-হাব এদিন এমন স্টার্টআপগুলি প্রদর্শন করে যেগুলি অটিজম কেয়ার, আদিবাসী জীবিকা, টেকসই ফ্যাশন, শহুরে পরিবহন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়কে ডিজিটালভাবে শক্তিশালী করার মতো সামাজিক বিষয়ে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ দেখায় যে ভারতের সংস্কৃতি, কারিগরি ও সম্প্রদায়ভিত্তিক স্থানীয় সমাধান বিশ্বেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে। আইআইএম সাম্বলপুর (IIM Sambalpur) ইতিমধ্যেই সাম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বীর সুরেন্দ্র সাই প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (VSSUT) সঙ্গে কো-ইনকিউবেশন চুক্তি করেছে, যা আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়িয়ে একটি শক্তিশালী উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। অনুষ্ঠানে প্রথম ব্যাচের ইনকিউবেটদের সম্মানিত করা হয় এবং দ্বিতীয় ব্যাচকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

আরও পড়ুন :  Vietnamese : টিভি সিরিয়াল দেখে শিখল হিন্দি–গুজরাটি!ভাইরাল হল ভিয়েতনামি যুবকের ভিডিও

অনুষ্ঠানে আইআইএম সাম্বলপুরের (IIM Sambalpur) পরিচালক প্রফেসর মহাদেব জয়সওয়াল বলেন, “একটি দেশের অগ্রগতি গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তার ওপর নির্ভর করে। স্টার্টআপ শুধু অর্থনীতিকে নয়, চিন্তার ধরনও বদলে দেয় এবং সমস্যার সমাধানের সংস্কৃতি গড়ে তোলে। আইআইএম সাম্বলপুর (IIM Sambalpur) এমন উদ্যোগগুলিকে এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেগুলি বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে, বিশেষ করে সেগুলি যা স্থানীয় মানুষকে প্রভাবিত করে।” আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের ন্যাশনাল প্রোডাক্ট হেড – স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম রঞ্জু সিগাটিয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “ইকোসিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত হন, পথ তৈরি করেছেন এমনদের থেকে শিখুন এবং প্রতিটি সুযোগকে অর্থবহ প্রভাব তৈরিতে কাজে লাগান।” শুগার.ফিট-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা শিবতোষ কুমার বলেন, “সত্যিকারের উদ্যোক্তা মানে শুধুই পণ্য লঞ্চ নয়—বরং এমন সমাধান তৈরি করা যা সমাজকে সত্যিকারের সাহায্য করে। কিছু বানানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—মানুষকে কি এটি সাহায্য করবে? এটি কি টেকসই?” ইওরনেস্ট ভেঞ্চার ক্যাপিটালের এভিপি (ফাইন্যান্স) রজত চাওলা বলেন, “ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বোঝা এবং সেটিকে ব্যবসায়িক মডেলের সঙ্গে কৌশলগতভাবে যুক্ত করা জরুরি। আমি বিশ্বাস করি, আগামী দশকে আইআইএম সাম্বলপুরের (IIM Sambalpur) কমিউনিটি এমন পণ্য তৈরি করবে যা বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাবে।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

গত এক বছরে আই-হাব ৮০টিরও বেশি মেন্টরশিপ সেশন, ৩০টি মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেছে এবং ২৭টি স্টার্টআপকে সহায়তা করেছে—যেগুলির মধ্যে রয়েছে বাজরা চাষকে উৎসাহিত করা, গ্রামীণ মহিলাদের জন্য পুনঃব্যবহারযোগ্য স্বাস্থ্যবিধি পণ্য, বুননশিল্পীদের ক্ষমতায়ন এবং অটিজম শিশুদের জন্য বিশেষ সেবা। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আইআইএম সাম্বলপুর তৃণমূল পর্যায়ে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে পরিবর্তন আনছে। আই-হাবের ভবিষ্যৎ উদ্যোগ নিয়ে ইনকিউবেশন চেয়ারপার্সন দিবাহার সুন্দর নাদার বলেন, “আই-হাব শীঘ্রই বিজনেস ক্লিনিক, মহিলাদের জন্য বিশেষ ইনকিউবেশন প্রোগ্রাম এবং মাস্টারপিস ইনকিউবেশন প্রোগ্রামসহ বহু নতুন উদ্যোগ শুরু করবে, যাতে তৃণমূল উদ্ভাবক ও স্টার্টআপরা আরও শক্তিশালী হয়।” প্রতিষ্ঠানের প্রধান মিশন “ ১০০ কিউব”-এর অধীনে আইআইএম সাম্বলপুর (IIM Sambalpur) ২০৩৬ সালের মধ্যে ১০০টি এমন স্টার্টআপ তৈরি করতে চায় যেগুলি ₹১০০ কোটি মূল্যায়নে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। এই মিশনে সাম্বলপুরী টেক্সটাইল, আদিবাসী উদ্যোক্তা, এগ্রো-টেক এবং মহিলাদের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উদ্ভাবন, সততা এবং অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে আইআইএম সাম্বলপুর (IIM Sambalpur) এমন দায়িত্ববান নেতা তৈরি করছে যারা স্থানীয় সমাধানকে জাতীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ে পৌঁছে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে অবদান রাখবে।