Mamata Banerjee: এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু-মিছিল, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার সাহায্য মুখ্যমন্ত্রীর

কলকাতা রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: রাজ্যজুড়ে বর্তমানে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) ঘিরে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা রীতিমতো প্রশাসনকে ভাবাচ্ছে। কোথাও আত্মহত্যা, কোথাও হঠাৎ হৃদরোগে মৃত্যু এসআইআর–এর ভয়ে মানুষের এমন আচরণ নবান্নকেও উদ্বেগে ফেলেছে। মঙ্গলবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, মানুষের এই ভয় কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সেই কারণেই এসআইআর আতঙ্কে মৃত প্রতিটি পরিবারের জন্য ২ লক্ষ টাকা এবং অসুস্থদের জন্য আর্থিক সাহায্য এক লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন:Mamata Banerjee : বিদেশি পর্যটকের পছন্দে দেশজুড়ে দ্বিতীয় স্থানে বাংলা, গর্বের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এখন ভোটার তালিকা ত্রুটিমুক্ত করার কাজ চলছে জোরকদমে। কমিশনের তরফে বারবার পরিষ্কার করে জানানো হয়েছে যে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে কারও নাম থাকলেই কোনও সমস্যা নেই। তবুও সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ ও ভয়ের মেঘ কাটছে না। অনেকেই আশঙ্কা করছেন—তালিকায় গণ্ডগোল হলে তাঁরা ‘দেশছাড়া’ হতে পারেন! আর এই অযৌক্তিক আতঙ্কই বহু মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। অভিযোগ, কেউ ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন, কেউ আবার মানসিক চাপে ভেঙে পড়েছেন। এমনকি দায়িত্বে থাকা ৩ জন ব্লক লেভেল অফিসার (BLO)-ও অনবরত চাপ সামলাতে না পেরে মৃত্যুর পথ বেছে নিয়েছেন বলে খবর। বর্তমানে আতঙ্কজনিত অসুস্থতার কারণে ১৩ জন, যার মধ্যে বিএলও–ও রয়েছেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “মৃত দুই বিএলও–র পরিবার ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ টাকা পেয়েছেন। একজনের পরিবার চাইলে নিতে পারবেন। রাজ্যজুড়ে মোট ৩৯ জন নাগরিক আতঙ্কে প্রাণ হারিয়েছেন। এই সব পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। অসুস্থদেরও আমরা সাহায্য করব।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

এরপর মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুতে যদি সরকার আর্থিক সাহায্য দেয়, তাহলে এসআইআর–এর মতো কারণেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে কেন পিছিয়ে থাকব? সংসার যেমন মেয়েরা সামলায়, সরকারও তেমনই মানুষের সুরক্ষার দায়িত্ব সামলায়।” এসআইআর নিয়ে ছড়ানো ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই প্রক্রিয়া কেবল ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য, কারও নাগরিকত্ব বা বসবাস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। রাজ্যের উদ্দেশে তার বার্তা“হাত গুটিয়ে বসে থাকবেন না, ভুলগুলো ঠিক করুন, কিন্তু ভয় পাবেন না। সরকার আপনাদের সঙ্গেই আছে।”