Women Empowerment: আমলা নিয়োগে মহিলাদের অগ্রগতি,তবুও কেন মিলছে না সমান সুযোগ?

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: সরকারি আমলা নিয়োগের কঠিন পরীক্ষায় মহিলাদের অংশগ্রহণ এবং সাফল্যের হার ক্রমেই বাড়ছে। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত কয়েক বছরে মহিলাদের পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় কর্মিবর্গ, জন অভিযোগ ও পেনশন প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ জানিয়েছেন, মহিলাদের আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনই তাদের সাফল্যের হারও নজরকাড়া।

আরও পড়ুন:Weather : দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তাণ্ডব কমলেও উত্তরবঙ্গে প্রবল দুর্যোগের সম্ভাবনা

মহিলা প্রার্থীর সাফল্যের ঊর্ধ্বগতি

পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে যেখানে ৯০০ জন নির্বাচিত প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ২২০ জন ছিলেন মহিলা, সেখানে ২০২৩ সালের তিন ধাপের পরীক্ষায় মোট ৩৯৭ জন মহিলা সফল হয়েছেন। অর্থাৎ কয়েক বছরের ব্যবধানে মহিলা প্রার্থীদের উপস্থিতি এবং সাফল্য দু’টিই বেড়েছে। অনেকেই প্রথমবারের চেষ্টায় সফল হচ্ছেন, আবার কারও ক্ষেত্রে তিন বা চারবার দেওয়ার পরও সিভিল সার্ভিসেস-এ (IAS, IPS, IFS) জায়গা করে নেওয়ার নজির রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, সফল মহিলাদের একটি বড় অংশই কলা বিভাগের স্নাতক।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অসংরক্ষিত শ্রেণিভুক্ত প্রার্থীরা ৩২ বছর বয়স পর্যন্ত সর্বাধিক ছয়বার পরীক্ষা দিতে পারেন। ওবিসি শ্রেণিভুক্তদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা ৩৭ এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তদের জন্য সর্বোচ্চ ৪২ বছর। অন্য সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীরা ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত মোট নয়বার পরীক্ষার সুযোগ পান। কেন্দ্রের মতে, অতিমারি-পরবর্তী সময়ে অনলাইন পড়াশোনার সুযোগ (Online Preparation, Digital Learning) গ্রাম–শহর— দুই জায়গাতেই মহিলাদের প্রস্তুতির পথ সহজ করেছে। ঘরে বসে কোচিং নেওয়ার সুবিধা পাওয়ায় চাকরির আকাঙ্ক্ষা আরও বেড়েছে। পাশাপাশি গত পাঁচ বছর ধরে সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারীদের মধ্যে শক্তি দুবে, ঈশিতা কিশোর, শ্রুতি শর্মার মতো মহিলা আধিকারিকদের সাফল্য নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

‘জাতীয় পরিবার ও স্বাস্থ্য সমীক্ষা’ অনুযায়ী, দেশে পুরুষ–নারী অনুপাত এখন ১০০০:১০২০ হলেও বাস্তবে উচ্চপদস্থ আমলা পদে (Government Bureaucracy) সুযোগ পাচ্ছেন ৪০০-রও কম মহিলা। গত পাঁচ বছরে উত্তীর্ণ মহিলা পরীক্ষার্থীর হার ২৪ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালেও বাস্তব চাকরির ক্ষেত্রে তাঁরা অনেক সময় পিছিয়ে পড়েন।

বহু সফল মহিলা আধিকারিকের অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে অল্প বয়সে বিয়ে, পরিবারিক দায়িত্ব, অন্য রাজ্যে পোস্টিং-জনিত আপত্তি এই সব কারণেই অনেক মহিলাকে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে আসতে হয়। তবুও তাঁদের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং বাড়তে থাকা প্রস্তুতির সুযোগ ভবিষ্যতে এই ব্যবধান আরও কমিয়ে আনবে বলেই আশা করা যায়।