Tarakeswar: শিশুর ভিটামিন সিরাপের বোতল খুলতেই মাকড়সা, তীব্র শোরগোল তারকেশ্বরের

স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ভিটামিন সিরাপের সিল করা শিশির ভিতরে মাকড়সা সদৃশ একটি পোকা ভাসতে দেখেই আতঙ্ক ছড়াল হুগলির তারকেশ্বরে। মাস দু’য়েকের শিশুকে খাওয়ানোর প্রস্তুতির সময় এই দৃশ্য চোখে পড়তেই আঁতকে ওঠেন মা-সহ পরিবারের সদস্যরা। ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশাসনের তরফে দ্রুত পদক্ষেপ করা হয় এবং আপাতত সংশ্লিষ্ট ভিটামিন সিরাপটির বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তারকেশ্বরের বাসিন্দা অশোক বসাক ও পায়েল বসাকের মাস দু’য়েকের সন্তানকে গত শুক্রবার এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যান তারা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শিশুকে নিয়মিত ভিটামিন ডি থ্রি সিরাপ খাওয়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মতো স্থানীয় একটি ওষুধের দোকান থেকে সিরাপটি কেনেন তারা। বাড়িতে ফিরে শিশুকে খাওয়ানোর জন্য শিশিটি হাতে নিতেই মায়ের নজরে পড়ে, সিল করা বোতলের ভিতরে মাকড়সার মতো একটি ছোট পোকা ভাসছে। পরিবারের দাবি, খুদেকে ওষুধ খাওয়ানোর আগেই বিষয়টি নজরে আসে, ফলে শিশুর কোনও শারীরিক সমস্যা হয়নি। সঙ্গে সঙ্গেই তারা ওই ওষুধের দোকানে গিয়ে অভিযোগ জানান। এরপর বিষয়টি জানানো হয় তারকেশ্বর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ হানিফকে। তিনি জানান, “অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে আপাতত ওই ভিটামিন ওষুধটির বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

আরও পড়ুন:Sergio Lobera in Kolkata : শহরে লোবেরা, কবে নামবেন অনুশীলনে?

এদিকে সংশ্লিষ্ট ওষুধের দোকানের মালিক চিরঞ্জিত দাস জানান, ঘটনার কথা ডিস্ট্রিবিউটরকে জানানো হয়েছে এবং তারাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, সম্প্রতি হুগলি, বর্ধমান ও কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক সন্দেহভাজন ও নকল ওষুধ ধরা পড়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩০০টি ওষুধকে ‘জাল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে প্রেসারের ওষুধ, ডায়াবেটিসের ওষুধ, ইনহেলার, ইনজেকশন-সহ দৈনন্দিন ব্যবহৃত বহু গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ। সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে ড্রাগ কন্ট্রোল জেনারেল অফ ইন্ডিয়া (DCGI)-এর তরফে কিউআর কোড চালু করা হয়েছে। ওষুধ বিক্রেতাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রতিটি ওষুধ বিক্রির আগে সেই কিউআর কোড স্ক্যান করে যাচাই করতে হবে। দোকানে ক্রেতাদের সচেতন করতে ওই কোড টাঙিয়ে রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই আবহে ভিটামিন সিরাপের ভিতরে পোকা পাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। শিশুদের জন্য ব্যবহৃত ওষুধের গুণমান ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।