নিউজ পোল ব্যুরো: নতুন স্মার্টফোন কেনার কথা ভাবছেন? তাহলে এখন থেকেই একটু সতর্ক হওয়াই বুদ্ধিমানের। কারণ সামনের দিনে স্মার্টফোনের দাম যে বেশ খানিকটা বাড়তে পারে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে (Smartphone price hike)। আশ্চর্যের বিষয়, এই মূল্যবৃদ্ধির নেপথ্যে সরাসরি মোবাইল প্রযুক্তির উন্নতি নয়, বরং দ্রুত সম্প্রসারিত হতে থাকা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টার (AI data center)। সম্প্রতি Counterpoint Research-এর এক সমীক্ষায় জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী এআই সার্ভার ও ডেটা সেন্টারের চাহিদা হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে স্মার্টফোন তৈরিতে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ, বিশেষ করে মেমোরি চিপের (DRAM memory) জোগানে চাপ পড়ছে। আধুনিক স্মার্টফোন হোক বা বিশাল এআই সার্ভার—উভয়ের ক্ষেত্রেই এই DRAM মেমোরি অত্যন্ত জরুরি। ফোনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ চালানো থেকে শুরু করে ভারী এআই মডেল (AI Model) চালানো—সব ক্ষেত্রেই এই একই চিপ ব্যবহৃত হয়। সমস্যা হল, এআই ডেটা সেন্টারের (AI data center) জন্য মেমোরি চিপ সরবরাহ করা নির্মাতাদের কাছে তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক। ফলে চিপ নির্মাতা সংস্থাগুলি স্মার্টফোন কোম্পানির চেয়ে এআই সংস্থাগুলিকেই বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে (smartphone manufacturing cost)। এর ফলেই স্মার্টফোন শিল্পে মেমোরি চিপের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং দাম লাগাতার বাড়ছে।
আরও পড়ুন : Weather Update : শীতের প্রভাব বাড়ছে! কলকাতায় পারদপতন, উত্তরবঙ্গে কুয়াশা ও ভোরের ঠান্ডা তীব্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি খুব শিগগির স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং ২০২৬ সাল পর্যন্ত এই চাপ বজায় থাকতে পারে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মেমোরির দাম প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে স্মার্টফোন তৈরির মোট খরচ বা ‘বিল অব ম্যাটেরিয়ালস’-এর উপর (AI data center)। সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লাগছে ২০০ ডলারের কম দামের বাজেট স্মার্টফোনে (budget smartphones)। গত এক বছরে এই ফোনগুলির উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। মিড-রেঞ্জ ও প্রিমিয়াম ফোনের ক্ষেত্রেও খরচ বেড়েছে গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এই বাড়তি খরচ বেশিদিন নিজেরা বহন করতে পারবে না নির্মাতা সংস্থাগুলি। ফলে Counterpoint-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ৬.৯ শতাংশ বাড়তে পারে, একই সঙ্গে বিক্রি কমে যেতে পারে প্রায় ২.১ শতাংশ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
তবে সব ব্র্যান্ড সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। Apple ও Samsung-এর মতো বড় সংস্থাগুলি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ছোট ও বাজেট ফোন নির্মাতারা খরচ কমাতে ক্যামেরা, ডিসপ্লে বা স্পিকারের মানে কাটছাঁট করতে পারে (speaker quality cut)। আগামী দিনে স্মার্টফোন আরও দামী হওয়ার পাশাপাশি কিছু ফিচারেও আপোস করতে হতে পারে (AI data center)। তাই যারা নতুন ফোন কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এখনকার আধুনিক মডেলই হয়তো কিছুদিনের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
