Souvik Chakraborty on ISL Situation : আইএসএলের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন

ক্রীড়া

নিউজ পোল ব্যুরো: নিশ্চিত সূচি নেই, অনিশ্চয়তার ঘন মেঘে ঢেকে রয়েছে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ। আইএসএল (ISL)কবে শুরু হবে, আই লিগের (I-League) ম্যাচই বা কবে—এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর এখনও অধরা। এই অচলাবস্থার মধ্যেই ট্রান্সফার উইন্ডোতে একের পর এক বিদেশি ফুটবলার ও কোচ দল ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন। পরিস্থিতির গভীরতা বুঝেই আর নীরব থাকতে পারলেন না ইস্টবেঙ্গলের নির্ভরযোগ্য মাঝমাঠ সৌভিক চক্রবর্তী (Souvik Chakraborty। তাঁর মতে, এভাবে চলতে থাকলে ভারতীয় ফুটবলের গোটা পরিকাঠামোই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:Africa Cup of Nations: একই ম্যাচে তিন গোলরক্ষক! জানা গেল আসল কারণ!

সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টে সৌভিক স্পষ্ট করে দেন, সমস্যাটা শুধু ফুটবলারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষই স্থায়ী চুক্তি বা সঞ্চয়ের সুযোগ পান না। মাসের শেষে বেতনের উপরই তাঁদের জীবন চলে। খেলোয়াড়, কোচ থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফ, ফিজিও, অ্যানালিস্ট, মিডিয়া টিম, কিট ম্যানেজার, মাঠকর্মী, ড্রাইভার, অপারেশনস টিম, এমনকি বিক্রেতাদের পরিবার—অসংখ্য মানুষ এই ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, দৈনন্দিন খরচ—সবই ফুটবল থেকে আসা আয়ের সঙ্গে যুক্ত। বেতন বন্ধ হলেই থমকে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

এই সংকট কাটাতে একাধিক বৈঠক হয়েছে ক্লাব ও ফেডারেশনের মধ্যে। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপও হয়েছে, কিন্তু বাস্তব সমাধান এখনও মেলেনি। পুরো বিষয়টি যেন ‘তারিখের পর তারিখ’-এর চক্রে আটকে। চাপের মুখে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন অবশেষে কিছুটা সক্রিয় হয়েছে। আইএসএল নিয়ে ক্লাবগুলির অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, ১ জানুয়ারির মধ্যে মতামত জানাতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রের ক্রীড়ামন্ত্রক, ফেডারেশন ও ক্লাব—সব পক্ষই বলছে লিগ হবে, কিন্তু মূল আর্থিক জট কাটেনি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

এই প্রেক্ষাপটেই সৌভিক চক্রবর্তীর মন্তব্য নতুন করে আলোচনায়। প্রশ্ন একটাই—এই অনিশ্চয়তার মধ্যে ক্লাবগুলি শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটে, আর ভারতীয় ফুটবল আদৌ কি স্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারবে? ইতিমধ্যেই ISL-এ মুম্বই সিটি এফসির মালিকানা থেকে সরে গিয়েছে সিটি গ্রুপ। বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল গ্রুপের ভারতীয় ফুটবলে বিনিয়োগ যেমন সাড়া জাগিয়েছিল, আশার আলো সঞ্চার করেছিল, সেটা শেষ হয়ে গিয়েছে তারা বেরিয়ে যাওয়ায়। সম্প্রতি ওডিশা এফসির শীর্ষকর্তা পদত্যাগ করেছেন। এফসি গোয়া থেকে বোরহা হেরেরা যাওয়ার সময়ে ভারতীয় ফুটবলের কঠিন অবস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন। বেতন বন্ধ একাধিক ক্লাবের। সৌভিকের বক্তব্য, এই পরিস্থিতি চললে মালিকরা তো সরবেন, সঙ্গে চাকরি হারাবেন অনেকে। এর ফলে যেই ক্ষতি হবে সেটা ঠিক করা যাবে না।