নিউজ পোল ব্যুরো: প্রাথমিকভাবে পরিকল্পনা ছিল ভারতীয় বায়ুসেনা ও স্থলসেনার বহরে আরও মার্কিন নির্মিত ঘাতক হেলিকপ্টার ‘অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই’ যুক্ত করা হবে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে চলেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক, এমনই দাবি করেছে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক-সংঘাত বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি সংক্রান্ত কোনও অচলাবস্থা নয়। বরং এর মূল কারণ ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান আত্মনির্ভরতার নীতি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই দেশীয় প্রযুক্তিতে যুদ্ধক্ষম হেলিকপ্টার তৈরির পথে অনেকটা এগিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (হ্যাল)। হ্যালের তৈরি বহুমুখী অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ‘ধ্রুব’ এবং লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’ ইতিমধ্যেই পরীক্ষিত ও সফল বলে দাবি করা হয়েছে। এই কারণেই বিদেশি বিকল্পের বদলে দেশীয় প্রকল্পের উপরই আস্থা রাখতে চাইছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কার্যকারিতার দিক থেকে শক্তিশালী হলেও এর দাম অত্যন্ত বেশি। তুলনায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হেলিকপ্টার অনেকটাই সাশ্রয়ী হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, আফগানিস্তান যুদ্ধে অ্যাপাচে সফল ভূমিকা পালন করলেও ইরাক যুদ্ধের সময় শহুরে লড়াইয়ে এই হেলিকপ্টারের একাধিক সীমাবদ্ধতা সামনে আসে। সে সময় সাদ্দাম হোসেনের বাহিনী ও পরে বিদ্রোহীদের হামলায় বেশ কয়েকটি অ্যাপাচে ধ্বংস হয়েছিল।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ২২টি অ্যাপাচে হেলিকপ্টার কেনা হয়। পরে ২০২০ সালে স্থলসেনার আর্মি অ্যাভিয়েশন কোরের জন্য আরও ছ’টি অ্যাপাচে কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও সরবরাহে দেরি হয়, শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শেষে মোট ২৮টি অ্যাপাচে ভারতের হাতে আসে। পরবর্তী ধাপে আরও হেলিকপ্টার সরবরাহের ইঙ্গিত মিললেও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্র অনুযায়ী, অ্যাপাচে আমদানির অধ্যায় কার্যত এখানেই শেষ। উল্লেখ্য, ‘অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ই’ হেলিকপ্টারের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার। এতে রয়েছে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র, ৭০ মিমি রকেট, ৩০ মিমি অটোক্যানন ও আধুনিক ডিজিটাল ককপিট। তবে আগামী দিনে এই ধরনের সক্ষমতার সমতুল্য দেশীয় হেলিকপ্টার তৈরি করাই এখন হ্যালের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
