নিউজ পোল ব্যুরো:‘যুবসমাজের নাড়ির স্পন্দন অনুধাবন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী’, মন্তব্য শশী পাঁজাররবিবার থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে তথাকথিত ‘বেকার ভাতা’ শিবির। আগামী ১ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলা ‘যুবসাথী প্রকল্প’-এ (West Bengal Yubasathi Scheme) আবেদন গ্রহণের লক্ষ্যে এগারো দিনের বিশেষ ক্যাম্পের সূচনাতেই সামনে এল বেকারত্বের তীব্র বাস্তব চিত্র। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে কলকাতা, মালদহ, শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন জেলায়। স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরাও আবেদনপত্র সংগ্রহে ভিড় জমিয়েছেন।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/15/national-cow-culture-museum-mathura-dilip-ghosh-reaction/
সরকারি সূত্রের দাবি, পূর্ববর্তী জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে। লক্ষ্য, কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় থাকা যুবসমাজকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান। অর্থ দপ্তর জানিয়েছে, সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ভাতা দিয়ে আবেদনকারীদের কর্মবাজারে প্রবেশের আগে সাময়িক সহায়ক শক্তি জোগানোই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
তবে শিবিরে উপস্থিত বহু আবেদনকারীর বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন সুর। তাঁদের মতে, আর্থিক ভাতা কোনও স্থায়ী সমাধান নয়। মহানগরীর এক স্নাতকোত্তর তরুণীর কথায়, “যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত চাকরি মিলছে না। সাময়িক সহায়তা মিললেও ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।” আর এক যুবকের মন্তব্য, “ভাতা নয়, স্থায়ী কর্মসংস্থানই প্রকৃত সমাধান।” মালদহের এক স্নাতকের বক্তব্য, অর্থসাহায্য সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি শিল্পোন্নয়ন ও নিয়োগই আসল প্রয়োজন।
প্রশাসনিক স্তরে অবশ্য আশাবাদী শাসকশিবির। নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যুবসমাজের মনোভাব অনুধাবন করেই এই পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং প্রথম দিনের সাড়া তারই প্রমাণ। অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পও প্রথমদিকে সমালোচিত হয়েছিল, কিন্তু পরে তা জনসমর্থন পায়।
অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কটাক্ষ করে বলেন, শিল্পোন্নয়ন ও সরকারি নিয়োগে স্থবিরতার ফলেই এ ধরনের ভাতা-নির্ভর নীতি গ্রহণ করতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, এ উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে জারি হওয়া চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এই আর্থিক সহায়তা সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য প্রযোজ্য। এটি কোনও দীর্ঘমেয়াদি বা ২০ বছরের ভাতা নয়। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই যদি আবেদনকারী চাকরি বা স্বনিযুক্তির সুযোগ পান, তবে ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। যোগ্যতার মানদণ্ড, আবেদনপদ্ধতি ও নথি যাচাইকরণের শর্তাবলিও বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
লোকমুখে ‘বেকার ভাতা’ নামে পরিচিত হলেও সরকারি নথিতে এর আনুষ্ঠানিক নাম ‘যুবসাথী প্রকল্প’ (West Bengal Yubasathi Scheme)। ৫ ফেব্রুয়ারি বাজেট তথা ভোট-অন-অ্যাকাউন্ট ঘোষণার পর দ্রুত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়নের পথে এগিয়েছে এই উদ্যোগ। ফলে একদিকে আর্থিক সহায়তার আশায় দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে স্থায়ী কর্মসংস্থানের রূপরেখা নিয়ে বিতর্ক—এই দ্বিমুখী বাস্তবতার মাঝেই শুরু হল যুবসাথী প্রকল্পের পথচলা।
