নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের জোরালোভাবে সামনে এসেছে মতুয়া ইস্যু (Matua Community)। বর্তমানে রাজ্যে ‘SIR’ আবহের পাশাপাশি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ‘CAA’। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ (Matua Community)। মতুয়াদের প্রসঙ্গ তুলে এবার বিজেপিকে (BJP) নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মতুয়া সমাজের শ্রদ্ধেয় ‘বড়মা’ বীণাপানি দেবীর তিরোধান দিবসে সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তা দিয়ে নাগরিকত্ব ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন (Mamata Banerjee) , নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে। তার বক্তব্য, এই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে বিজেপি (BJP)। সামাজিক মাধ্যমে করা পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন (Mamata Banerjee), “নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা অন্যায় মানব না। এই লড়াই চলবে।” পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রশ্নটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বহু বছর ধরে মতুয়া মহাসঙ্ঘের অনুসারীরা এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন। অনেক মতুয়া পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বসবাস করলেও তাদের কাছে প্রাথমিক নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথি বা পুরোনো কাগজপত্র নেই। ফলে নাগরিকত্বের বিষয়টি রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত ‘SIR’ তালিকায় দেখা গিয়েছে, বহু মতুয়ার নাম এখনও ‘বিচারাধীন’ অবস্থায় রয়েছে (Matua Community)। বসিরহাট, নদিয়া, রানাঘাট ও বনগাঁ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় এই পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে বনগাঁ, রানাঘাট, বারাসত এবং গাইঘাটার মতো এলাকাগুলিতে মতুয়া ভোটারদের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিটি নির্বাচনের আগেই মতুয়া নাগরিকত্ব ইস্যু নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। এবার ‘SIR’ তালিকা প্রকাশের পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার (Citizenship Amendment Act – CAA) পাশ করে। এই আইনে পাকিস্তান, বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় নির্যাতনের কারণে ভারতে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিস্টান শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। বিজেপির দাবি, এই আইনের মাধ্যমে মতুয়া শরণার্থীরা সহজেই ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, মতুয়ারা বহুদিন ধরেই ভারতের নাগরিক এবং নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে বিজেপি (BJP) নেতৃত্বের দাবি, তৃণমূলের প্রচারের কারণেই অনেক মতুয়া নাগরিকত্বের আবেদনপত্র জমা দেননি। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder) অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস নাকি মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করেছিল যে নাগরিকত্বের ফর্ম পূরণ করলে সরকারি প্রকল্প—যেমন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে। সেই ভয়ের কারণেই অনেকে আবেদন করেননি বলে তার দাবি। তবে মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় এখনও একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। নাগরিকত্বের শংসাপত্র কবে হাতে পাবেন, নির্বাচন ঘোষণার আগে কি সেই প্রক্রিয়া শেষ হবে, কিংবা আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ আদৌ মিলবে কি না—এই সব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনও পাননি মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ। ফলে নাগরিকত্ব ইস্যু ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি (Matua Community)।
