ECI 2026 : নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরই বড় পদক্ষেপ কমিশনের, সরানো হল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল ঘটানো হয়েছে। আদর্শ আচরণবিধি (Model Code of Conduct) কার্যকর হওয়ার পরই রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় কমিশন (ECI) । সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসে মুখ্যসচিব পর্যায়ের কোনও আধিকারিককে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা খুবই বিরল বলেই মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের অনেকেই। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার দুই দফার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন (ECI)। ভোটের তারিখ প্রকাশের পরপরই নির্বাচন কমিশন একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে জানানো হয়, নন্দিনী চক্রবর্তী এবং জগদীশপ্রসাদ মীনাকে অবিলম্বে তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। পাশাপাশি কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনওভাবেই ভোট সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

আরও পড়ুন : Election 2026: নির্বাচনের আগে নজিরবিহীন পরিস্থিতি, বাংলায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’

এই নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন করে প্রশাসনিক দায়িত্ব বণ্টনের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে। নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিওয়ালা। তিনি এর আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে তাকে যথেষ্ট দক্ষ বলেই মনে করা হয়। অন্যদিকে, ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক সংঘমিত্রা ঘোষকে রাজ্যের নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে। এতদিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার দুপুর ৩টার মধ্যেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole

প্রশাসনিক মহলে এখন প্রশ্ন উঠছে—কেন এত বড় সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন? সাধারণত নির্বাচন ঘোষণার পর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই কমিশনের হাতে চলে যায়। অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতে অতীতেও একাধিকবার স্বরাষ্ট্রসচিব বা পুলিশ কমিশনার বদলের নজির রয়েছে। যেমন ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন (Lok Sabha Election 2019) চলাকালীন অত্রি ভট্টাচার্য এবং রাজীব কুমারের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার সরাসরি মুখ্যসচিবকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই নির্বাচন কমিশন এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে ভোটের আগে বাংলার প্রশাসনিক সমীকরণে যে বড় পরিবর্তন ঘটল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।