নিউজ পোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) চালু হয়েছিল গত ২৭ অক্টোবর। সেই প্রক্রিয়ার পর রবিবার দেশের নির্বাচন কমিশন চারটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের- পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে ভোটমুখী রাজ্য অসমে ‘সার’ না হয়ে সেখানে স্পেশাল রিভিশন চালানো হয়েছিল।
তবে নির্বাচনী সূচি ঘোষণার দিনেও পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ পরিস্থিতি। কারণ, এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের ভবিষ্যৎ কী হবে এবং তাদের মধ্যে কতজন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ৬০ লক্ষের মধ্যে প্রায় ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার ভোটারের নথি যাচাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। যাঁদের কাগজপত্র পরীক্ষায় সঠিক বলে বিবেচিত হয়েছে, তাঁদের নাম খুব শিগগিরই সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় প্রকাশ করা হবে। যদিও ঠিক কতজন পাশ করেছেন এবং কতজন বাদ পড়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি কমিশন। তবে সূত্রের দাবি, নিষ্পত্তি হওয়া এই মামলাগুলির প্রায় ৪০ শতাংশ আবেদন বাতিল হয়েছে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট বিচারক বা জুডিশিয়াল অফিসাররা তাদের নথিতে সন্তুষ্ট হননি।যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে একটি অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। তবে সেই ট্রাইব্যুনাল এখনও গঠিত হয়নি। ফলে অনেকেরই আশঙ্কা, যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের পক্ষে ভোটের আগে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া কঠিন হতে পারে। এই বিষয়ে দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিচারাধীন নথির নিষ্পত্তি যত এগোবে, ততই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে পুরো প্রক্রিয়া ভোটের আগে শেষ হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলেননি।নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরাই ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। বাংলায় দুই দফার ভোটের জন্য মনোনয়ন জমার শেষ দিন যথাক্রমে ৬ ও ৯ এপ্রিল। ফলে হাতে খুব বেশি সময় নেই। এর মধ্যেই বাকি প্রায় ৪৪ লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের নথি যাচাই সম্পূর্ণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। আগামী ২৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা, আর সেই দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ।
