নিউজ পোল ব্যুরো:২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আসানসোলের জনসমুদ্রকে সাক্ষী রেখে কেন্দ্রের শাসক শিবিরের বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে হাতিয়ার করে বিরোধী শক্তিকে দমানোর অপচেষ্টার পাশাপাশি এবার ফোন করে প্রার্থী ও মন্ত্রীদের ভয় দেখানোর বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। আসানসোলের নির্বাচনী মঞ্চ থেকে তাঁর তোপের মূল নিশানায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, গণতান্ত্রিক মর্যাদাকে খর্ব করে ক্ষমতায় আসীন থাকার নৈতিক অধিকার ইতিমধ্যেই হারিয়েছে কেন্দ্রের সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘মোটাভাই’ সম্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এদিন অভিযোগ করেন, বিরোধী শিবিরের প্রার্থী ও মন্ত্রীদের ফোনে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল যদি বিজেপির অনুকূলে না আসে বা তাদের আসন সংখ্যা কম থাকে, তবে যেন তৃণমূলের দিক থেকে সমর্থনের ব্যবস্থা করা হয়— এমনতর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, ইডি এবং সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করছে বিজেপি, যা সুস্থ গণতন্ত্রের পরিপন্থী। দলবদল ও রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রসঙ্গে সরব হয়ে নেত্রী বলেন, ক্ষমতার লোভে যাঁরা বিশ্বাসঘাতকতা করেন, সেই চরিত্রহীনতার দাগ জনসমক্ষে চিরকালীন কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে, যা কখনও মোছা যায় না।
বিজেপির তথাকথিত ‘চার্জশিট’-এর পাল্টা জবাবে নেত্রীর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। তিনি সাফ জানান, এনআরসি-র মতো ইস্যু সামনে এনে বিভাজনের রাজনীতি করা ছাড়া বিজেপির আর কোনও জনমুখী কর্মসূচি নেই। জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েও যদি শাসকদল জনমানসকে অপমান করে, তবে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। আসানসোলের মঞ্চ থেকে কার্যত হুঙ্কার ছেড়ে তিনি ঘোষণা করেন, “বাংলা জিতে এবার দিল্লির পথে অগ্রসর হব।” নিজেকে জনতার নেত্রী হিসেবে তুলে ধরে তিনি মনে করিয়ে দেন, তিনি কোনও বিলাসবহুল গাড়িতে চড়ে নয়, বরং মানুষের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হতে পায়ে হেঁটে তাঁদের কাছে পৌঁছন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
ঝাড়গ্রামের সাম্প্রতিক বিষপান-কাণ্ড নিয়েও এদিন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ওআরএস ভেবে ভুল করে কীটনাশক পান করার ঘটনাটিকে তিনি ‘রহস্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর পিছনে কোনও গভীর ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। নির্বাচনের এই তপ্ত আবহে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বাইরের খাবার বা পানীয় গ্রহণে বিশেষভাবে সংযম পালনের পরামর্শ দেন। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত কোনও গোপন তথ্য যেন অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে ভাগ না করা হয়। সব মিলিয়ে, আসানসোলের এই হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে, ভয় প্রদর্শন বা এজেন্সি দিয়ে তাঁকে দমানো সম্ভব নয় এবং বাংলার মানুষের রায়েই তিনি দিল্লির মসনদ দখলের লড়াইয়ে নামবেন।
