নিউজ পোল ব্যুরো: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) ঘিরে শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা। ইতিমধ্যেই দু’দফার ভোটপর্ব শেষ হয়েছে, এবং সেই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অশান্তির খবর না মিললেও এবার ভোটগণনা কেন্দ্রিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। ভোটগণনার দিন সম্ভাব্য অশান্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে এবং ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তিনি শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেন। নাম না করেই তিনি বলেন, ‘এখানেও এক ধরনের ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) রয়েছেন, যিনি প্রয়োজনে গণনা প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে পারেন। এমনকি বিস্ফোরণের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। যারা ক্ষমতার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, তারা পরাজয় মেনে নিতে পারেন না।’ তার এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
যদিও দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) কাকে লক্ষ্য করে এই মন্তব্য করেছেন, তা স্পষ্ট নয়, তবে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) এই ইস্যুতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তৃণমূলের মুখপাত্র শান্তনু সেন পালটা বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক কেমন, তা সকলেরই জানা। দিলীপ ঘোষ সরাসরি কিছু বলার সাহস পান না বলেই এভাবে পরোক্ষে মন্তব্য করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের মধ্যে কোণঠাসা ছিলেন, এখন আবার প্রাসঙ্গিক হওয়ার চেষ্টা করছেন।’ এদিকে ভোটগণনায় কোনও ধরনের কারচুপি ঠেকাতে বিজেপি সংগঠনগত স্তরে প্রস্তুতি জোরদার করেছে। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার ৩৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী, এজেন্ট ও শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মেচেদার একটি গেস্ট হাউসে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দিলীপ ঘোষ, দিব্যেন্দু অধিকারী, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব, জে পি রাঠোর, সুনীল বনশল এবং অমিত মালব্য সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
বৈঠকের পর বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তৃণমূলের দায়ের করা সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) মামলার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের দিয়ে গণনার কাজে লাগানোর বিরোধিতা করছে তৃণমূল। তাদের হয়ে মামলা লড়ছেন কপিল সিব্বল। আমরা ক্ষমতায় এলে জানতে চাইব, এর জন্য তাকে কত পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। আসলে জনগণ তৃণমূলকে ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই এখন মামলা করে কোনও লাভ হবে না।’
