নিউজ পোল ব্যুরো:রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। কোনও রাজনৈতিক দলের নয়, বরং বাংলার সার্বিক উন্নতির লক্ষ্যে একটি ‘ইস্তেহার’-এর আদলে প্রস্তুত রিপোর্ট রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দিলেন তিনি। রাজ্যপালের দাবি, এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক উদ্যোগ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ববোধ থেকেই এই পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/04/india-concerned-over-venezuela-crisis-urges-dialogue/
রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরবর্তীতে এই নথি রাজ্যের সমস্ত রাজনৈতিক দল, এমনকি রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারকেও দেওয়া হতে পারে। সাধারণত নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলি ভোটারদের সামনে নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে ইস্তেহার প্রকাশ করে। সেই জায়গায় রাজ্যপালের এই উদ্যোগ ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জল্পনা।
এই প্রসঙ্গে রাজ্যপাল আনন্দ বোস (CV Ananda Bose) বলেন, “এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। সাংবিধানিক দায়িত্বে থেকে গত কয়েক বছরে আমি যা দেখেছি, বুঝেছি, সেটাই রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছি। এটাকে একটি পরিকল্পনা বলা যেতে পারে।” তাঁর কথায়, কৃষি, শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য—এই সব ক্ষেত্রেই কীভাবে উন্নয়ন সম্ভব, তারই একটি রূপরেখা রয়েছে এই নথিতে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NF
রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া এই ইস্তেহারের শীর্ষক— ‘শান্তি, শুদ্ধি ও সমৃদ্ধি: রোডম্যাপ ফর এ নিউ বেঙ্গল’। নতুন বাংলার পথনকশা হিসেবেই একে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই ইস্তেহারের প্রচ্ছদ ঘিরেও বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রচ্ছদে দুর্গাপ্রতিমা, হাওড়া ব্রিজ, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, হলুদ ট্যাক্সি ও গ্রামবাংলার চিত্রের পাশাপাশি রয়েছে দু’জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের ছবি— সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। উল্লেখযোগ্য ভাবে, শীতকালীন অধিবেশনে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও ‘বন্দে মাতরম’-এর উচ্চারণ নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী-সহ একাধিক বিজেপি সাংসদ।
এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতে রাজ্যপাল মূলত তিনটি বিষয় তুলে ধরেন। প্রথমত, এই ইস্তেহার জমা দেওয়া। দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্রপতির জীবন ও কর্ম নিয়ে একটি বই লেখার ইচ্ছাপ্রকাশ। তৃতীয় বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা না হলেও সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপশাসনের অভিযোগ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেছেন রাজ্যপাল।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের মুখে রাজ্যপালের এই উদ্যোগ রাজ্য-রাজনীতি ও প্রশাসনিক সম্পর্কে নতুন করে চাপানউতোর তৈরি করতে পারে।
