নিউজ পোল ব্যুরো: বাস্তব কখনও কখনও সিনেমাকেও হার মানায়। আমরা অনেকেই দেখেছি মায়ের ভালোবাসা নিয়ে অনেক সিনেমা। যেখানে শেষ মুহূর্তেও মা সন্তানের জন্য লড়ে যায়। যেমন কৃষ্ণের গল্পে মা যশোদার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একটাই কথা ‘শত হলেও মা তো…’। গত ৩০ এপ্রিল মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে নর্মদা নদীর উপর অবস্থিত বর্গি ড্যামে ঘটে যায় ভয়াবহ নৌকাডুবির ঘটনা, যেখানে এক পরিবারের স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে চুরমার হয়ে যায় (Jabalpur Incident)। দিল্লি থেকে বেড়াতে আসা একটি পরিবারসহ বহু পর্যটক সেদিন বিকেলে নৌকাভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। হঠাৎই আবহাওয়ার পরিবর্তন, ঝোড়ো হাওয়া এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দ পরিণত হয় বিভীষিকায়। উপস্থিত যাত্রীদের অনেকেই জলে তলিয়ে যান (Jabalpur Incident)।
পরদিন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে একের পর এক দেহ উদ্ধার করতে থাকে। কিন্তু তাদের চোখের সামনে যে দৃশ্য ধরা পড়ে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একটি জানালার ধারে উদ্ধার হয় এক মহিলার নিথর দেহ কিন্তু তিনি একা নন। নিজের সন্তানের দেহকে বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে রেখেছেন তিনি। মৃত্যুর পরও সেই আঁকড়ে ধরা বন্ধন এতটাই দৃঢ় ছিল যে উদ্ধারকারী দলকেও তাদের আলাদা করতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। প্রাণ নেই তবুও আলাদা করা যায়নি তাদের। এই দৃশ্য যেন মাতৃত্বের এক চরম উদাহরণ হয়ে ওঠে। সন্তানকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আগলে রাখার সেই প্রবল প্রবৃত্তি মৃত্যুকেও হার মানিয়েছে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়ার পরও মা তাঁর সন্তানকে ছাড়েননি এই তথ্য আরও গভীর করে তুলেছে ঘটনাটির আবেগঘন দিক (Jabalpur Incident)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম মেরিনা ম্যাসি এবং তাঁর চার বছরের ছেলে তৃষান। লাইফ জ্যাকেট পরা থাকলেও তাঁরা প্রাণে বাঁচতে পারেননি। তবে পরিবারের অন্যান্য সদস্য স্বামী প্রদীপ ও মেয়ে সিয়া সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, এখনও কয়েকজন নিখোঁজ। ২৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নৌকায় প্রায় ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে (Jabalpur Incident)।
