নিউজ পোল ব্যুরো:’ভোটের আগের রাতে সব ভোটার কার্ড নিয়ে’, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের কারণে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন এবার দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন, যা রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এক গভীর তাৎপর্য বহন করছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভার অন্তর্গত সমস্ত ২৮৫টি বুথেই পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের বাকি ২৯৩টি বিধানসভা আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে নির্ধারিত সময়ে, অর্থাৎ আগামী সোমবার; তবে ফলতা কেন্দ্রের ফল ঘোষণা পিছিয়ে ২৪ মে করা হবে। স্বাভাবিকভাবেই, এই পৃথকীকৃত ফলপ্রকাশের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে জল্পনা ও উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/05/03/arjun-singh-alleges-vote-counting-fraud-west-bengal/
এই ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক তরজাও ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠেছে। বিজেপির প্রভাবশালী নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার নিরিখে এক সমস্যাসঙ্কুল এলাকা হিসেবে পরিচিত। তিনি দাবি করেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন হোক, বিধানসভা নির্বাচন কিংবা লোকসভা নির্বাচন—প্রতিবারই সাধারণ ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) অভিযোগের অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে ভোটের আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ। তাঁর দাবি, ভোটের আগের রাতে বহু ক্ষেত্রে ভোটারদের বাড়ি থেকে জোরপূর্বক ভোটার পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া হত, যাতে তারা পরদিন ভোট দিতে না পারেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচনী ফলাফলকে একতরফাভাবে প্রভাবিত করা হয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে অস্বাভাবিক ব্যবধানে জয়ের ঘটনাও এই প্রেক্ষাপটেই ব্যাখ্যা করা উচিত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে, বিধাননগরে স্ট্রং রুমের বাইরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাকেও তিনি তৃণমূলের ‘রক্ষণাত্মক মানসিকতা’র বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তাঁর মতে, এতদিন যে দল আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করত, এক্সিট পোল প্রকাশের পর থেকেই তারা ধীরে ধীরে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে চলে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, এই পরিবর্তন আসলে আসন্ন ফলাফল নিয়ে শাসকদলের উদ্বেগেরই প্রতিফলন। এমনকি তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ফল ঘোষণার আগেই তৃণমূলের একাংশ কাউন্টিং এজেন্ট নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
এছাড়াও, কালীঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি)-র সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, কমিশনের দৃষ্টিতে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের ভূমিকা সন্তোষজনক না হওয়ায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার প্রচেষ্টারই অংশ।
সমগ্র পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দিলীপ ঘোষ দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, আসন্ন নির্বাচনী ফলাফল কার্যত পূর্বনির্ধারিত। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট আশাবাদ ফুটে ওঠে যে, বিজেপি এই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করবে। এই দাবি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে এবং আগামী ফলপ্রকাশের দিনগুলিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
