নিউজপোল ব্যুরো: আজ বৃহস্পতিবার ভরদুপুরে কলকাতার সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল এবং কড়া নিরাপত্তায় মোড়া এলাকা কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অতর্কিতে এসে পৌঁছায় সিআইডি-র একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। দুপুর গড়াতেই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে পৌঁছে যায় গোয়েন্দাদের একটি দল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তারা ২৯ডি নম্বর একটি বাড়িতে প্রবেশ করে। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার পর বিকেল তিনটে নাগাদ বেরিয়ে যান আধিকারিকরা। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
জানা গিয়েছে, ওই বাড়িটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বোন রিনা গায়েনের। সূত্রের খবর, ভোটপ্রচারের সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলার সূত্র ধরেই সিআইডির এই পদক্ষেপ। যদিও তদন্তকারী সংস্থা এখনও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। রিনা গায়েনের মেয়ে অদিতি গায়েনকে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একাধিকবার দেখা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি অভিষেকের সোশ্যাল মিডিয়া টিমের কাজের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। অতীতে আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা লিওনেল মেসির সফরের সময় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল।।সিআইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলের শীর্ষ নেতা তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত চালাচ্ছেন তাঁরা। আর সেই মামলার সূত্র ধরেই এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর খোঁজ মিলছিল, যিনি এই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ির ভেতরেই ছিলেন। ওই মূল সাক্ষীর সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি কথা বলতে এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করতেই আজ সিআইডি আধিকারিকরা সমস্ত প্রোটোকল ভেঙে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আত্মীয়ের ড্রয়িং রুমে গিয়ে হাজির হন।
সব মিলিয়ে, পিসির বাড়ির পাড়ায় আর আত্মীয়ের অন্দরে সিআইডি-র এই হানা প্রমাণ করছে যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তদন্তের জাল কতটা শক্ত করে বোনা হচ্ছে! ক্ষমতার অহংকারে এতদিন যারা নিজেদের আইন-আদালতের ঊর্ধ্বে ভাবতেন, জমানা বদলাতেই কালীঘাটের অন্দরমহলে ঢুকে সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করার এই ঘটনা সরাসরি ভাইপোর দিকে এক মস্ত বড় ধাক্কা। নিজের বিশ্বস্ত সোশ্যাল মিডিয়া টিম আর আত্মীয়দের ঢাল বানিয়েও অভিষেক এবার আইনের হাত থেকে নিজেকে কীভাবে বাঁচান, নাকি পিসির শেষ আশ্রয়টুকুও এবার তাঁর হাতছাড়া হবে, সেটাই এখন দেখার।
