নিউজপোল ব্যুরো: ভোটে হেরে ক্ষমতা থেকে সরতেই কলকাতার ই এম বাইপাস সংলগ্ন উত্তর পঞ্চান্নগ্রামের ওই পাঁচতলা অস্থায়ী তৃণমূল ভবনটি ফাঁকা করার কাজ শুরু হয়েছে। বাড়ির মালিক মন্টু সাহার কড়া নির্দেশে গত দু’দিন ধরে দলীয় ফ্লেক্স, টেবিল-চেয়ার নিচে নামানো হচ্ছিল। কিন্তু বুধবার চার তলার ভেতরে ঢুকতেই চোখ চড়কগাছ হয়ে গেল সবার। দলীয় কার্যালয় বা রাজনৈতিক অফিসের আড়ালে সেখানে যে রীতিমতো এক রাজকীয় বিলাসবহুল সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল, তা এবার সবার সামনে চলে এসেছে।
বাড়ির মালিকের নির্দেশে গত কয়েকদিন ধরে ভবন থেকে দলীয় সামগ্রী সরানোর কাজ চলছিল। সেই সময় ভবনের চারতলায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে একাধিক সুসজ্জিত বড় বেডরুম। প্রতিটি ঘরে এসি, বড় টিভি, আলমারি, ল্যান্ডফোন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা ছিল। ঘরের সঙ্গে ছিল অ্যাটাচড বাথরুমও। সব মিলিয়ে পরিবেশ অনেকটা হোটেলের ঘরের মতো বলেই দাবি স্থানীয়দের একাংশের। এই ঘটনা সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ কর্মীদের জন্য নয়, বরং বিশেষ কিছু ব্যক্তির সুবিধার জন্যই এমন ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুরনো তৃণমূল ভবন পুনর্নির্মাণের কাজ চলার সময় এই পাঁচতলা ভবনকে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই ভবন খালি করা নিয়ে মালিক ও দলের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত এখন ধাপে ধাপে সব জিনিস সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কারণ দলীয় অফিসের ভিতরে এমন বিলাসবহুল পরিকাঠামো কেন ছিল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এখন দেখার, এই বিতর্কের জবাবে তৃণমূল কী অবস্থান নেয়। শেষ প্রশ্ন কিন্তু থেকেই যাচ্ছে— দলীয় কার্যালয়, নাকি গোপন ভিআইপি বিশ্রামকেন্দ্র?ঘর খালি হতে শুরু করতেই যে ছবি সামনে এল, তা নিয়ে আগামী দিনে আরও বড় তথ্য প্রকাশ্যে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
