দেশের রক্ষকই এবার ধর্ষক! হোটেল রুমে তরুণীকে লাগাতার ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার আরজি করের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক CISF জওয়ান!

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: দেশের রক্ষকই এবার ধর্ষক! আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নাম জুড়লেই যেখানে আতঙ্কে শিউরে ওঠে মানুষ, সেখানে ফের এক চরম লজ্জাজনক ঘটনা সামনে এলো। ধৃত সিআইএসএফ জওয়ানের নাম পারুল আহমেদ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি কর হাসপাতালে নির্যাতিতার মায়ের চিকিৎসা চলার সময়ই নিউটাউনের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল পারুলের। দেশের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা এক উর্দিধারী জওয়ানকে বিশ্বাস করাই যেন কাল হলো ওই তরুণীর। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রথমে বন্ধুত্ব এবং পরে প্রেমের ফাঁদ পাতে পারুল। কিন্তু এরপরেই বেরিয়ে আসে জওয়ানের আসল পাপিষ্ঠ রূপ। চিনার পার্ক সংলগ্ন একটি নামী হোটেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই তরুণীর ওপর নৃশংস নির্যাতন ও ধর্ষণ চালানো হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের গোপন ও আপত্তিকর ভিডিও ক্যামেরাবন্দী করে রেখে তরুণীকে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে পারুল। সেই ভিডিও ভাইরালের ভয় দেখিয়ে আরও বেশ কয়েকবার তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।

অবশেষে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় নির্যাতিতা নিজের পরিবারকে পুরো ঘটনাটি জানান এবং গত ৯ই জুন নারায়ণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।অভিযোগ পাওয়া মাত্রই কালবিলম্ব না করে অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ান পারুল আহমেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এবং পোক্ত প্রমাণ জোগাড় করতে চিনার পার্কের ওই হোটেলের বিছানার চাদর এবং অভিযুক্ত জওয়ানের ইউনিফর্ম ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন কাণ্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই সিআইএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদেরও চিঠি পাঠিয়েছে পুলিশ। আরজি করের মতো একটি অতি সংবেদনশীল হাসপাতালের পাহারাদারই যখন এমন জঘন্য লালসার শিকার বানায় আমজনতাকে, তখন সাধারণ নারীদের নিরাপত্তা যে কতটা তলানিতে, তা আরও একবার প্রমাণ হয়ে গেল। বর্ডারের নিরাপত্তা দেওয়া যে হাত, সেই হাতেই এক অসহায় তরুণীর ইজ্জত লুঠ করতে কাঁপেনি—এই চরম লজ্জার দাগ ধুয়ে ফেলা অসম্ভব। প্রেমের ফাঁদ পেতে, আপত্তিকর ভিডিও তুলে ব্ল্যাকমেল করার এই মারাত্মক অপরাধের পর পারুল আহমেদের মতো লম্পটকে কোনোভাবেই রেয়াত করা উচিত নয়। দেশের জওয়ানদের উর্দির সম্মান ধুলোয় মেশানো এই ভক্ষক যাতে কোনো অবস্থাতেই আইনের ফাঁক গলে পার না পায়, এবং তার সর্বোচ্চ ও কঠোরতম শাস্তি হয়, সেটাই এখন একমাত্র দাবি নির্যাতিতার!