নিউজ পোল ব্যুরো: সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মৌমাছির হঠাৎ আক্রমণে একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পুরুলিয়ার কাশীপুর থানার সিমলা গ্রামে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ৬৮ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত আয়কর কর্মচারী শীতল মিশ্র। সেই সময়েই লেলহে মাছি নামে পরিচিত এক ধরনের বড় মৌমাছির ঝাঁক তার উপর আক্রমণ করে। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও শেষরক্ষা হয়নি, ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন:Kolkata Earthquake: হঠাৎ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মহানগর, উৎসস্থল এখনও অজানা
একই রকম হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে দুর্গাপুরের মেজর পার্কের কাছে। ৬২ বছর বয়সি অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল দত্ত রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এক পথচারীকে সাহায্য করতে স্কুটার থামিয়ে নামেন। তখনই কাছের একটি মৌচাক ভেঙে হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে মৌমাছির ঝাঁক। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীর থেকে প্রায় ৮৫০টিরও বেশি হুল পাওয়া গিয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে।
রায়গঞ্জেও গত এক মাসে মৌমাছির কামড়ে দু’টি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এক ক্ষেত্রে গরুর শিংয়ের আঘাতে বাঁশের বেড়ায় থাকা ভীমরুলের চাক ভেঙে যায়, ফলে কয়েকশো ভীমরুলের আক্রমণে প্রাণ হারান এক ব্যক্তি। অন্য ঘটনায়, বাজপাখির আঘাতে মৌচাক ভেঙে গিয়ে প্রাতঃভ্রমণকারী এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। আসানসোলের জামুড়িয়া থানার চুরুলিয়ায় খাড়ু রুইদাস বাড়ির পাশে গাছ থেকে মধু সংগ্রহের সময় মৌমাছির ঝাঁকে আক্রান্ত হন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। চিকিৎসকদের মতে, এক-দু’টি মৌমাছির হুলে সাধারণত তীব্র জ্বালাভাব ছাড়া বড় সমস্যা হয় না। কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে দংশন হলে শরীরে বিষ প্রবেশ করে অ্যানাফাইলেক্টিক শক তৈরি হতে পারে। বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজের বিষ বিশেষজ্ঞ ডা. সোমনাথ দাস জানাচ্ছেন, এই বিষের ফলে শরীরে ইডিমা তৈরি হয়ে শ্বাসনালি ফুলে যায়, যার জেরে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু ঘটতে পারে। সময়মতো অ্যাড্রিনালিন ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
পতঙ্গবিদদের মতে, ভারতে ছয় প্রজাতির মৌমাছি পাওয়া যায়, যার মধ্যে Apis dorsata অত্যন্ত আক্রমণাত্মক। এদের বাসায় সামান্য আঘাত লাগলেই শতাধিক মৌমাছি একসঙ্গে আক্রমণ করতে পারে। এই কারণে পুরুলিয়া ও দুর্গাপুরের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ আক্রান্ত কেউই মৌচাক ভাঙতে যাননি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রাস্তায় বেরোনো নিয়েও ভয় ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পাশাপাশি মৌচাকের কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
