দমদমে নাবালিকা হেনস্থায় অভিযুক্তকে পালাতে সাহায্য! প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জলিল মণ্ডলকে আটকের পরেই রণক্ষেত্র থানা

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা শহর

নিউজপোল ব্যুরো: সাতসকালে ফের এক নারকীয় ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমার উপকণ্ঠ। দমদমের সাপুইপাড়ায় এক নাবালিকাকে যৌন হেনস্থার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে চরম উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। এই সংবেদনশীল ঘটনায় মূল অপরাধীকে আড়াল করা এবং তাকে এলাকা থেকে পালাতে সরাসরি সাহায্য করার মতো বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জলিল মণ্ডলের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, রাতেই নির্যাতিতার পরিবার এবং এলাকার মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, হেনস্থার ঘটনার পর অভিযুক্তকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন ওই প্রাক্তন কাউন্সিলর। এমনকি তার মদতেই মূল অপরাধী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রণক্ষেত্রের রূপ নেয় দমদম থানা চত্বর। দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে এবং প্রাক্তন কাউন্সিলরের গ্রেফতারির দাবিতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা রাতেই থানার সামনে এসে এক বিশাল বিক্ষোভ জমায়েত করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে দমদম থানার পুলিশ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করে এবং রাতেই প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর জলিল মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তবে মূল অভিযুক্ত এখনও পলাতক থাকায় এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার সার্ভে পার্ক এলাকাতেও এক আবাসিক নাবালিকাকে দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে তার ক্যারাটে প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। একটি এনজিও-র হস্টেলে থাকা ওই নাবালিকাকে গত বছর জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যে একাধিকবার নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ। ক্রমাগত অত্যাচারের জেরে নাবালিকা অসুস্থ হয়ে পড়লে পুরো বিষয়টি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির (CWC) নজরে আসে। এরপর রবীন্দ্র সরোবর থানা ও সার্ভে পার্ক থানার যৌথ তৎপরতায় অভিযুক্ত ক্যারাটে প্রশিক্ষক প্রসেনজিৎকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ, সোমবারই তাকে আলিপুর পকসো (POCSO) আদালতে পেশ করা হবে।

দমদম থেকে সার্ভে পার্ক—পর পর নাবালিকা নির্যাতনের এই জোড়া ঘটনায় রাজ্যের নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। পুলিশ জানিয়েছে, দমদমের ঘটনায় পলাতক অপরাধীর খোঁজে তল্লাশি চলছে এবং আটক প্রাক্তন কাউন্সিলরকে জেরা করে আসল সত্যিটা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।