নিউজপোল ব্যুরো:পূর্ব বর্ধমানের জনবহুল এলাকায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থার (STF) চাঞ্চল্যকর অভিযানে ধরা পড়ল জম্মু-কাশ্মীরের এক খতরনাক জঙ্গি। গোপন সূত্রের খবর এবং দীর্ঘদিনের তল্লাশির পর শুক্রবার ভোরে বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউজ়িং এলাকায় হানা দিয়ে উদ্ধার করা হয় তাকে। তদন্তকারী সূত্রে খবর, ধৃত ব্যক্তির নাম হামিদ মণ্ডল। সে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদের এক অতি সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে, ধৃত হামিদ মণ্ডল ইন্টারন্যাশনাল টেরর অর্গানাইজেশন ‘জৈশ-ই-মহম্মদ’-এর এক অতি সক্রিয় ও ডেঞ্জারাস স্লিপার সেল মেম্বার। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, পাকিস্তানে বসে উপত্যকায় সন্ত্রাস চালানো কুখ্যাত জঙ্গি হ্যান্ডলার শাহজাদ ভাট্টির কোর গ্রুপের সাথে সরাসরি কন্ট্যাক্ট ছিল এই হামিদের। এমনকি উপত্যকার সাজ্জাদ ভাট গ্যাংয়ের সাথেও সে এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে রেগুলার কমিউনিকেশন রাখত বলে মিলেছে ডিজিটাল এভিডেন্স।
বেঙ্গল STF-এর ইন্টারোগেশনে উঠে এসেছে হাড়হিম করা সব সিক্রেট। এই জঙ্গি কেবল বাংলায় সেফ শেল্টার খুঁজতেই আসেনি, বরং তার আসল টার্গেট ছিল অনেক বড়। অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর ওপরে এক বড়সড় সুইসাইড অ্যাটাক বা আত্মঘাতী হামলার কনস্পিরেসি বা চক্রান্ত কষছিল এই হামিদ। এই মেগা নাশকতার মাস্টারপ্ল্যান এক্সিকিউট করার জন্যই সে বর্ধমানের মতো শান্ত জেলাকে নিজের হাইডআউট বা গোপন ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছিল। যাতে ক্রাউডেড রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সের ভিড়ে তাকে কেউ সহজে সাসপেক্ট করতে না পারে। পাকিস্তানের হ্যান্ডলারদের সাথে সে কীভাবে ডিল করত তা ইনভেস্টিগেট করতে কোমর বেঁধে নেমেছেন গোয়েন্দারা। নিজেদের কাস্টডিতে নিয়ে এই গ্লোবাল টেরর নেটওয়ার্কের শিকড় অবধি পৌঁছাতে মরিয়া বেঙ্গল STF।
