নিউজপোল ব্যুরো: কিছু গল্প শুধু চোখে দেখা যায় না, অনুভব করতে হয়। কিছু জায়গা শুধু ভ্রমণের জন্য নয়, নিজের মনকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার জন্যও হয়। নেটফ্লিক্সে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মন জয় করেছে ‘মুসাফির ক্যাফে’। প্রেম, সম্পর্ক, পাহাড় আর জীবনের নতুন অর্থ খোঁজার গল্পে মুগ্ধ বহু মানুষ। কিন্তু সিরিজ় শেষ হওয়ার পর এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরছে সবার মনে— আসল ‘মুসাফির ক্যাফে’ কোথায়? পর্দায় যে সুন্দর পাহাড়ি ক্যাফে দেখা যায়, সেটাই কি বাস্তবের সেই জায়গা?
অনেকেই ভাবছেন, সিরিজ়ে দেখা ক্যাফেটিই বাস্তবের ‘মুসাফির ক্যাফে’। কিন্তু সত্যিটা একেবারেই অন্যরকম। আসল Musafir Cafe রয়েছে হিমাচল প্রদেশের ছোট্ট পাহাড়ি শহর বীর-এ। প্রকৃতির কোলে গড়ে ওঠা এই ক্যাফে শুধু খাবারের জন্য নয়, বরং ভ্রমণপিপাসু, শিল্পী, সঙ্গীতপ্রেমী আর নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের জন্যও বিখ্যাত। এখানে গেলে মনে হবে, সময় যেন ধীরে বয়ে চলেছে। এই ক্যাফের প্রতিষ্ঠাতা গৌরব কুশওহা। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার পর কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি বীরে তৈরি করেন ‘মুসাফির ক্যাফে’। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই ছোট্ট উদ্যোগ আজ বহু পর্যটকের প্রিয় ঠিকানা। প্রতি বছর এখানে আয়োজন হয় Musicathon, যেখানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শিল্পী ও সঙ্গীতপ্রেমীরা এসে মিলিত হন। তবে এখানেই রয়েছে সবচেয়ে বড় চমক। সিরিজ়ে যে সুন্দর ক্যাফেটি দর্শক দেখেছেন, সেটি কিন্তু বীরের আসল Musafir Cafe নয়। শুটিং হয়েছে মুসৌরির ঝাড়িপানি ক্যাসেল-এ। এই জায়গাটি আসলে কোনও ক্যাফে নয়, বরং একটি ঐতিহ্যবাহী হেরিটেজ বুটিক হোমস্টে।
১৯৩২ সালে তৈরি হওয়া ঝাড়িপানি ক্যাসেল একসময় ব্রিটিশ আমলে অতিথিশালা হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরে এটি নতুন রূপ পায় এবং এখন পর্যটকদের থাকার জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। পুরনো দিনের স্থাপত্য, পাহাড়ের অপূর্ব দৃশ্য আর শান্ত পরিবেশের জন্য এই জায়গা আজও পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। এখানে থাকার জন্য রয়েছে ডিলাক্স রুম, স্যুট, ভিলা স্যুট ও লগ হাটের মতো একাধিক ব্যবস্থা। মৌসুম অনুযায়ী ভাড়া সাধারণত ৬,৪০০ টাকা থেকে ২৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
অর্থাৎ, সিরিজ়ে দেখা দৃশ্যের প্রেমে পড়ে যদি কেউ ‘মুসাফির ক্যাফে’ খুঁজতে বেরিয়ে পড়েন, তাহলে মনে রাখতে হবে— বাস্তবে রয়েছে দুটি আলাদা ঠিকানা। একদিকে হিমাচলের বীরে স্বপ্নের আসল Musafir Cafe, অন্যদিকে মুসৌরির ঝাড়িপানি ক্যাসেল, যেখানে ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই জাদুকরী পরিবেশ। তাই পাহাড়ে বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে এই দুই জায়গাকেই তালিকায় রাখতে পারেন। এক জায়গায় পাবেন বাস্তবের ‘মুসাফির’ অনুভূতি, আর অন্য জায়গায় খুঁজে পাবেন পর্দার সেই স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর ছোঁয়া। হয়তো আপনারও মনে হবে— কিছু জায়গায় পৌঁছানোর জন্য শুধু ভ্রমণ নয়, দরকার একটা গল্পও।
