নিউজপোল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির ওপর নজরদারি এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চক্রান্তের পেছনে উঠে এলো ২০১৯ সালের ভয়াবহ পুলওয়ামা হামলার ছায়া। সম্প্রতি বর্ধমানের রেনেসাঁ উপনগরী থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ অনুগামী হামিম মণ্ডলকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, হামিম সরাসরি এই অঞ্চলে কাজ করলেও সে কাশ্মীরের সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর কাছেই মুখ্যমন্ত্রীর গোপন অবস্থান ও তথ্য আদান-প্রদান করত। আর এই তথ্যের পরই নতুন করে উঠে আসছে এক সময়ে জম্মু-কাশ্মীর কাঁপানো কুখ্যাত জঙ্গি সাজ্জাদ ভাটের নাম।
কে এই সাজ্জাদ ভাট এবং কেন তাকে নিয়ে এত তোলপাড়? ২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে যে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৪০ জন জওয়ান শহীদ হয়েছিলেন, সেই হামলায় ব্যবহৃত মারাত্মক বিস্ফোরক বোঝাই মারুতি ইকো গাড়িটির শেষ মালিক ছিল এই সাজ্জাদ ভাট। জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগের বাসিন্দা সাজ্জাদ দেওবন্দী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করা একজন ‘হাফিজ’ ছিল। জঙ্গি নেতা বুরহান ওয়ানির হাত ধরে সে পথ ভুল করে জঙ্গি দলে যোগ দেয় এবং পরবর্তীতে পাক মদতপুষ্ট জইশ-ই-মহম্মদের বিপজ্জনক ‘ফিদায়েঁ’ বা আত্মঘাতী স্কোয়াডের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠে। পুলওয়ামা হামলার মাত্র ১০ দিন আগে কেনা সেই গাড়িটি বিস্ফোরণে ধ্বংস হওয়ার পরেই এনআইএ তার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করে।
যদিও ঘটনার পরেই সে আত্মগোপন করেছিল এবং হাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে জইশে যোগ দেওয়ার ছবি ছড়িয়ে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। ২০১৯ সালের ১৮ জুন অনন্তনাগে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র গুলির লড়াইয়ে খতম হয় এই পুলওয়ামা মাস্টারমাইন্ড। তবে সাজ্জাদ নিহত হলেও তার গড়ে তোলা অনুগামী ও তথ্য সরবরাহের নেটওয়ার্ক যে পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, তা বর্ধমানের এই সাম্প্রতিক কাণ্ডেই পরিষ্কার। হামিম মণ্ডলের মতো নজরদারদের ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির খবর সাজ্জাদ গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর এই প্রচেষ্টা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিরাট সতর্কবার্তা। বর্তমানে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এই চক্রান্তের শিকড় কতদূর ছড়িয়ে রয়েছে তা গভীর অনুসন্ধান চালিয়ে জানার চেষ্টা করছে।
