নিউজ পোল ব্যুরো:প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে চালু হওয়া একাধিক জনমুখী ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুললেন কালীঘাটপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার নতুন কোনও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে পূর্ববর্তী সরকারের জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির নাম বদলে রাজনৈতিক কৃতিত্ব অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করলেই মানুষের স্মৃতি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন:Dilip Ghosh:’বহু নেতা মধুতে আসক্ত’ তোলাবাজি ইস্যুতে দলের একাংশকে নিশানা দিলীপ ঘোষ!
সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, সম্প্রতি এমন একাধিক তথ্য সামনে এসেছে, যেখানে প্রাক্তন সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘কন্যারত্ন’ এবং বহু ছাত্র-ছাত্রীর উপকারে আসা ‘সবুজ সাথী’ সাইকেল প্রকল্পের নাম বদলে ‘সারথী’ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কন্যাশ্রী শুধুমাত্র একটি সরকারি প্রকল্প নয়, এটি নারীশিক্ষা ও কন্যাসন্তানের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসিত একটি মডেল। ফলে নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকল্পটির মূল ভাবনা বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবদান কোনওভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।
‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ আরও বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার লক্ষ লক্ষ পড়ুয়া সাইকেল পেয়েছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও বহু পরিবারের সন্তানদের সেই সাইকেল ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। তাঁর কথায়, “অনেক সময় বিরোধী দলের সমর্থকরাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সবুজ সাথীর সাইকেল নিয়েই আন্দোলন বা মিছিলে অংশ নিয়েছেন। এটিই প্রমাণ করে প্রকল্পটির গ্রহণযোগ্যতা কতটা বিস্তৃত ছিল।”
স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়েও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তৃণমূল নেতা। ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের তুলনা টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। অথচ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের অধিকাংশ মানুষ শর্তহীন স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা পেতেন। বর্তমানে যাঁরা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসবেন না, তাঁদের জন্য পৃথকভাবে পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমার ঘোষণা করা হচ্ছে, যা কার্যত স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পেরই পুনরাবৃত্তি বলে দাবি করেন তিনি। কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা নিশ্চিত করেছিলেন। তাহলে নতুন করে একই ধরনের ব্যবস্থা ঘোষণা করে রাজনৈতিক প্রচারের প্রয়োজন কী?”
এছাড়াও তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-সহ একাধিক জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে পরিবর্তন আনায় প্রকৃত উপভোক্তার সংখ্যা কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘নাম পরিবর্তনের রাজনীতি’র অভিযোগও তুলেছেন কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসার পর একাধিক রাস্তা, রেলস্টেশন এবং সরকারি প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের নজির তৈরি করেছে। এখন রাজ্যেও একই ধারা অনুসরণ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এটি প্রমাণ করে যে পূর্ববর্তী সরকারের প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে এতটাই জনপ্রিয় ও কার্যকর ছিল যে সেগুলিকে বাতিল করার পরিবর্তে শুধুমাত্র নাম পরিবর্তনের পথই বেছে নেওয়া হচ্ছে। কারণ, প্রকল্পগুলির মূল কাঠামো ও জনস্বার্থমূলক দর্শন আগেই প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
