Taslima Nasrin:মাদ্রাসার বদলে সেক্যুলার স্কুল হওয়া উচিত: তসলিমা নাসরিন!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:বাংলার খারিজি মাদ্রাসাগুলির কার্যক্রম ও প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই খোঁজখবর শুরু করেছে রাজ্যের নতুন সরকার। সূত্রের খবর, রাজ্যের ১২টি জেলার খারিজি মাদ্রাসার বর্তমান পরিস্থিতি সংক্রান্ত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই সরকারের হাতে জমা পড়েছে। এই আবহেই খারিজি মাদ্রাসা প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin)।

আরও পড়ুন:Narendra Modi:’২০৪৭-এর উন্নত ভারত গড়বে আজকের নেশামুক্ত তরুণরা’ বার্তা প্রধানমন্ত্রীর!

বাংলা অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যুতে নিজের মতামত প্রকাশ করেন তিনি। সেই সময়ই বাংলাদেশের খারিজি মাদ্রাসা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তসলিমা নাসরিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তাঁর জানা তথ্য অনুযায়ী এই ধরনের খারিজি মাদ্রাসার অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়। তাঁর দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে ঘিরে উগ্রপন্থী মতাদর্শের বিস্তারের অভিযোগ সামনে এসেছে।

তসলিমার বক্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার উঠে এসেছে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতন, যৌন হেনস্তা ও ধর্ষণের অভিযোগ। এমনকি বিভিন্ন ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইমামদের গ্রেফতার হয়ে কারাবন্দি হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। তবে শুধুমাত্র অপরাধীদের শাস্তি দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না বলেই মত তাঁর। বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এ প্রসঙ্গে আরও কড়া অবস্থান নিয়ে তসলিমা নাসরিন (Taslima Nasrin) বলেন, বর্তমান কাঠামোর মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখেন না। তাঁর মতে, এই ধরনের শিক্ষা গ্রহণ করে অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী মূলধারার পেশাগত জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে পারেন না। তাই ধর্মভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে সব মাদ্রাসাকে ধর্মনিরপেক্ষ বা সেক্যুলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শুধু মাদ্রাসা নয়, অতিরিক্ত সংখ্যক মসজিদ নির্মাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লেখিকা। তাঁর বক্তব্য, সব মসজিদকে এক কাঠি দিয়ে বিচার করা না গেলেও কিছু ক্ষেত্রে সেগুলি উগ্রপন্থী মতাদর্শের বিস্তারের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

তসলিমা নাসরিন আরও বলেন, একটি প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকা জরুরি। সরকারের কাজ ধর্ম প্রচার করা নয়; বরং নাগরিকদের অধিকার, স্বাধীনতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত ও সভ্য রাষ্ট্র এই নীতিতেই পরিচালিত হয় এবং এর ফলেই গণতান্ত্রিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হয়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

এদিন ছাত্র আন্দোলন নিয়েও নিজের মতামত তুলে ধরেন বাংলাদেশের এই লেখিকা। দিল্লির সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি বিস্তারিতভাবে অনুসরণ করেননি। তবে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপ দেখে তাঁর মনে হয়েছে, ঘটনাটি অনেকটা বাংলাদেশের ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

তাঁর দাবি, বাংলাদেশে প্রথমে সেই আন্দোলনকে সাধারণ ছাত্রদের কোটা সংস্কার আন্দোলন বলে মনে হয়েছিল। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দাবি মেনে সংশোধনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নেয় বলে মন্তব্য করেন তসলিমা। তাঁর অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলনের নেপথ্যে উগ্রপন্থী শক্তির প্রভাব ছিল এবং সরকার পতনের পর তারাই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি ছাত্র আন্দোলনের পরিণতি ইতিবাচক হবে— এমন ধারণা সব সময় সঠিক নয়।