নিউজ পোল ব্যুরো:দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের উন্নয়নের গতি কি টুলু মণ্ডলের সঙ্গেই থমকে গেল? শিল্পাঞ্চল জুড়ে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন। একদিকে টুলু মণ্ডল (Tulu Mondal) ফেরার, অন্যদিকে তাঁর সংস্থার হাতে থাকা কোটি কোটি টাকার সরকারি রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে। ফলে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
আরও পড়ুন:Jagannath Chattopadhyay:’মাত্র ৭৩ দিনেই বীরভূমে রাজস্ব আদায়ে নজির’ দাবি উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর!
জানা গিয়েছে, টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) সংস্থা মণ্ডল স্টোন প্রোডাক্ট প্রাইভেট লিমিটেড আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন সংস্থা (এডিডিএ)-র অনলাইন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রায় ২২ কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণের বরাত পায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দুর্গাপুর পুরসভার ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের রাতুড়িয়া-অঙ্গদপুর শিল্পতালুক এলাকায় প্রায় ৩.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার কাজ আট মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে প্রায় ১৫ মাস কেটে গেলেও প্রকল্পের বড় অংশ এখনও অসম্পূর্ণ।
শুধু এই প্রকল্পই নয়, কাঁকসা ব্লকের আমলাজোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের আইমা গ্রামে প্রায় ১ কোটি টাকার পেভার ব্লকের রাস্তা নির্মাণের দায়িত্বও একই সংস্থার হাতে রয়েছে। অভিযোগ, সেখানেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ কার্যত বন্ধ।
বর্তমানে রাতুড়িয়া-অঙ্গদপুর শিল্পতালুকের রাস্তার উপর ব্যালেস্ট ও স্টোন ডাস্ট ফেলে রোড রোলার চালানোর পর থেকেই নির্মাণকাজ থমকে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর থেকে আর কোনও অগ্রগতি হয়নি। বর্ষার বৃষ্টিতে অর্ধসমাপ্ত রাস্তার বিভিন্ন অংশে ব্যালেস্ট সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ধুলোয় ঢেকে থাকা সেই রাস্তা এখন উন্নয়নের প্রতীক নয়, বরং প্রশাসনিক গাফিলতি ও অব্যবস্থাপনার বাস্তব চিত্র হয়ে উঠেছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, “টুলু মণ্ডল দুর্গাপুরে রাস্তার কাজ করছে, তা জানতাম না। এখন তো তিনি ফেরার। পুলিশ যদি তাঁকে গ্রেফতার করে, তাহলে অসমাপ্ত রাস্তার কাজ শেষ করবে কে? বিষয়টি এডিডিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।”
অন্যদিকে, এডিডিএ-র এক আধিকারিকের দাবি, টুলু মণ্ডল ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত না থাকলেও প্রকল্পের কাজ থেমে থাকার কথা নয়। তাঁর দেওয়া পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির ভিত্তিতে একজন প্রতিনিধি কাজের দেখভাল করছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও চালু রয়েছে।
তবে একাধিক প্রশ্ন এখনও উত্তরহীন। যে প্রকল্প আট মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল, তা ১৫ মাস পরও কেন অসম্পূর্ণ? প্রায় ২২ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে এই দীর্ঘসূত্রতার দায় নেবে কে? আর শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে ভাঙাচোরা রাস্তা, ধুলোবালি ও দুর্ভোগের মধ্যে আর কতদিন কাটাতে হবে—সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে জোরালোভাবে উঠছে।
