নিউজ পোল ব্যুরো:লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে একাধিক ইস্যুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay) জানান, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার লক্ষ্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রস্তুতি, ছাত্রভর্তি প্রক্রিয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ভর্তির অগ্রগতি, জয়েন্ট এন্ট্রান্স ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অতিরিক্ত সংখ্যক মেধাবী পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পরিকল্পনাও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন:Manik Saha:তারকেশ্বরে পুজো দিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসায় পঞ্চমুখ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী!
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৮ ও ১৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে চলা উপাচার্য সম্মেলন নিয়েও রাজ্যপালকে অবহিত করা হয়েছে। ওই সম্মেলনে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী—উভয়কেই আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করাই এই সম্মেলনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বৈঠক-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিতর্ক সম্পর্কেও মন্তব্য করেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay)। তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী বামফ্রন্ট সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির স্বার্থে তসলিমা নাসরিনকে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য করেছিল এবং সেই সময় রাজনৈতিক স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবি করে তিনি বলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর আদর্শে বিশ্বাসী। সেই আদর্শের ভিত্তিতেই তসলিমা নাসরিনের মতো একজন বাঙালি ও সাহসী লেখিকাকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “তসলিমা নাসরিন বাংলায় এসেছেন এবং বাংলাতেই থাকবেন।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
এছাড়াও বীরভূমে নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা এবং টুলু মণ্ডলকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া দেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ৭২ থেকে ৭৩ দিনের মধ্যেই বীরভূম জেলা থেকে প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পাথর ও বালিখাদান, খনিজ পরিবহণ এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের বৈধ নিলাম ও রাজস্ব সংগ্রহের মাধ্যমে এই বিপুল অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা পড়েছে। তাঁর দাবি, খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক কড়াকড়ির ফলেই রাজস্ব আদায়ে এই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে।
