নিউজ পোল ব্যুরো:‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’, ‘তোলাবাজি বরদাস্ত নয়’—নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত তিন মাসে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের (Shamik Bhattacharya) মুখে বারবার উচ্চারিত হয়েছে এই কড়া বার্তা। দলীয় সংগঠনের অভ্যন্তরে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট-রাজ এবং অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে যখন শীর্ষ নেতৃত্ব ধারাবাহিক ভাবে কঠোর অবস্থানের কথা জানাচ্ছে, ঠিক তখনই খোদ রাজ্য সভাপতির নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আরও পড়ুন:Tapas Roy:১৫ বছরের শিল্পখরা কাটিয়ে বাংলায় বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত, সিঙ্গুরেও ফের শিল্পের সম্ভাবনা!
অভিযোগ, একটি রিয়েল এস্টেট সংস্থার কাছ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়। এমনকী, তাঁর নাম, পদমর্যাদা ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নেমে হাওড়ার সালকিয়া থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার একটি অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে ঘটনার কথা নিজেই প্রকাশ্যে আনেন শমীক ভট্টাচার্য (Shamik Bhattacharya)। তাঁর বক্তব্য, তাঁর নাম ব্যবহার করে রিয়েল এস্টেট সংস্থার কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য ফোন করা হয়েছিল। এমনকী, তাঁর নাম, পদ ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে চিঠিও পাঠানো হয়। বিষয়টি জানতে পেরে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করে তদন্তের আর্জি জানানো হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, জলপাইগুড়ি থেকে এই প্রতারণার ছক কষা হয়েছিল বলে প্রাথমিক ভাবে উঠে এসেছে। সেই সূত্র ধরেই হাওড়ার সালকিয়া থেকে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনার তাৎপর্য আরও বাড়ছে সাম্প্রতিক দলীয় প্রেক্ষাপটে। কয়েক দিন আগেই বিজেপির তরফে দলের অভ্যন্তরে তোলাবাজি-সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত এবং দলবিরোধী অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করতে জেলা পর্যবেক্ষকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, কোনও বিজেপি নেতা বা কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠলে তা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতি এবং বিধায়কদের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য নেতৃত্বের তরফে।
রাজ্য পার্টির কাছে এমন অভিযোগও পৌঁছেছে যে, একাধিক ক্ষেত্রে জেলা সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং বিধায়কদের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। ফলে সংগঠনের অভ্যন্তরে অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেও তৈরি হচ্ছে জটিলতা। সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে সংগঠনে সমন্বয় বাড়িয়ে দলকে ‘বিশুদ্ধ’ করার বার্তাই ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole
তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যখন সংগঠনকে ভিতর থেকে শুদ্ধ করার লক্ষ্যে বিজেপি নেতৃত্ব একের পর এক পদক্ষেপ করছে, ঠিক সেই সময় দলের রাজ্য সভাপতির নাম, পদ ও পরিচয় ব্যবহার করে বহিরাগতদের টাকা আদায়ের চেষ্টা—এই ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। দলের অন্দরের ‘অসাধু’ চক্রকে রুখতে নেতৃত্ব যখন মরিয়া, তখন তাঁদের পরিচয়কেই হাতিয়ার করে প্রতারণার জাল বিস্তার করছে কারা? এই ঘটনার তদন্তের পাশাপাশি সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাও এখন পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
