নিউজপোল ব্যুরো: বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলকে ঘিরে তদন্তে এবার আরও বড় পদক্ষেপের কথা সামনে আনলেন সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, টুলুর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। এবার তাঁর বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি হয়েছে বলেও আদালতে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে টুলুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে তিনি হাজির না হলে তাঁকে ‘প্রোক্লেইমড অফেন্ডার’ বা ঘোষিত অপরাধী হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন সরকারি আইনজীবী। আর সেই ঘোষণা হলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে তাঁর নামে থাকা সম্পত্তির বিরুদ্ধে বাজেয়াপ্তির পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও আদালতে জানানো হয়েছে।
টুলুকে খুঁজতে তদন্তের পাশাপাশি তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়েও নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। সোমবার শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলের পিছনে একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে তিন জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার বীরভূমের আদালতে পেশ করা হয়। আদালত তাঁদের সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, ধৃত তিন জন টুলুর ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর ব্যবসায়িক চক্রের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল। টাকার লেনদেন-সহ বিভিন্ন কাজে তাঁদের ভূমিকা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ওই বাড়ি থেকে টুলুর স্ত্রীর নামে থাকা একাধিক সম্পত্তির নথিও পেয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে বীরভূমের পাথর খাদান ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সরকারি আইনজীবীর দাবি, গত কয়েক বছরে পাথর ব্যবসার ক্ষেত্রে সরকারের বড় অঙ্কের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার)-এর রিপোর্টে গত পাঁচ বছরে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির কথা উঠে এসেছে।
একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গা থেকে জাল DCR উদ্ধার হওয়ার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এই নেটওয়ার্ক বা সিন্ডিকেট কাজ করত, কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সরকারি রাজস্বের ক্ষতি কীভাবে হয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ, একদিকে সরকারের রাজস্ব কমেছে, অন্যদিকে টুলু মণ্ডল এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত চক্র বিপুল লাভ করেছে। তবে এই সমস্ত অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত এবং আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপরই নির্ভর করবে। এখন সবচেয়ে বড় নজর ১৪ সেপ্টেম্বরের শুনানির দিকে। ওই দিন টুলু আদালতে হাজির হন কি না, আর না হলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়—সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে তদন্তকারী মহল।
