নিউজপোল ব্যুরো: শক্তিশালী ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলো ল্যাটিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে একের পর এক বহুতল ও আস্ত লোকালয়। প্রতিটা মুহূর্ত গড়াচ্ছে আর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক বের হয়ে আসছে নিথর মৃতদেহ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, এই বিধ্বংসী প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪০ জন মানুষ। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও মৃতের সংখ্যা যে আরও অনেক বেশি হতে পারে, সেই আশঙ্কাই জোরদার হচ্ছে। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ। ইট-সিমেন্টের বিরাট চাঁইয়ের নিচে কেউ কি এখনও অলৌকিকভাবে বেঁচে আছেন? কেবল এই ক্ষীণ আশাকে সম্বল করেই দিনরাত এক করে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন ত্রাণকর্মীরা।
গত ১০ আগস্ট (সোমবার) কলম্বিয়ার পশ্চিমভাগে আচমকাই আঘাত হানে ৭.৪ মাত্রার এই প্রচণ্ড শক্তির ভূমিকম্প। ভূকম্পন বিজ্ঞানীদের মতে, রাজধানী বোগোটা থেকে বেশ কিছুটা দূরে চোকো জেলার ‘সান হোসে দেল পালমার’ এলাকাতেই ছিল এই কম্পনের মূল উৎস। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৯৬ কিলোমিটার গভীরে তৈরি হওয়া এই ভূকম্পনের ধাক্কায় নিমেষের মধ্যে ধসে পড়ে ১,৫৭৫টিরও বেশি বাড়িঘর। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের প্রায় ৬টি প্রধান বিমানবন্দর। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। এর ওপর ক্রমাগত আফটারশক বা অনুকম্পন তৈরি হওয়ায় চরম আতঙ্কে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
সময় যত এগোচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ততটাই ক্ষীণ হয়ে আসছে। তাও হাল ছাড়তে নারাজ উদ্ধারকারী দল। প্রাণের একটুখানি সাড়া পেতে আধুনিক সিসমিক সেন্সর, বিশেষ রাডার এবং থার্মাল ক্যামেরা ব্যবহার করে কাদা ও কংক্রিটের স্তূপে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কোথাও কোনো ক্ষীণ নড়াচড়া বা আওয়াজ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছেন উদ্ধারকর্মীরা। আন্তর্জাতিক স্তর থেকেও কলম্বিয়ার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকেও এই দুঃসময়ে কলম্বিয়ার পাশে থাকার আশ্বাস এবং পূর্ণ সহযোগিতার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ধ্বংসের এই কালো মেঘ কাটিয়ে কত দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে কলম্বিয়া, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
