হত্যা নাকি আত্মহত্যা? NRS -এর নার্সের দুই কনুইয়ে সূঁচ ফোটার টাটকা দাগ! অক্সিজেনের অভাবে নীল হয়েছিল শরীর! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মিলল মৃত্যুর আসল রহস্য

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা শহর

নিউজপোল ব্যুরো: কলকাতার অন্যতম শীর্ষ সরকারি হাসপাতাল নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজের (NRS) স্ত্রীরোগ বিভাগে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ থাকার পর বুধবার গভীর রাতে অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ড লাগোয়া শৌচাগারের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হলো তরুণী নার্সিং স্টাফ রূপালী বর্মণের নিথর দেহ। সময় যত গড়াচ্ছে, এই রহস্যমৃত্যুর পরতে পরতে জমে উঠছে এক অতল ধোঁয়াশা। এটি কি কেবলই আত্মহনন, নাকি হাসপাতালের সুরক্ষিত ওয়ার্ডের ভেতরেই ঘটে গিয়েছে অন্য কোনো অজানা অঘটন?

পটাশপুরের বাসিন্দা রূপালী বর্মণ বুধবার রাতে ডিউটিতে যোগ দেওয়ার কিছু পরেই নিখোঁজ হয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পর শৌচাগার ভেঙে তাঁকে মেঝেই লুটিয়ে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু আসল রহস্যের সূত্রপাত হয় বৃহস্পতিবার তাঁর প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসতেই। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, অক্সিজেনের তীব্র ঘাটতির কারণে রূপালীর চোখের সাদা অংশ, নখ এবং জিভের একাংশ নীলচে রঙ ধারণ করেছিল। অর্থাৎ, শ্বাসপ্রশ্বাস সম্পূর্ণ রুদ্ধ হয়েই প্রাণ গিয়েছে তাঁর। তবে সবচেয়ে মারাত্মক প্রশ্নটি তুলে দিয়েছে তাঁর দুটো কনুইয়ে থাকা ‘ইনজেকশন ফোটানোর’ জোড়া চিহ্ন এবং দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ফেন্টানিল ও মিডাজোলামের মতো অ্যানাস্থেসিয়ার ফাঁকা ভায়াল!

যদি রূপালী নিজেই নিজের শরীরে ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন, তবে দুটি কনুইতেই সূচের চিহ্ন এলো কীভাবে? নাকি শৌচাগারের সেই রুদ্ধ দরজার ওপারে এমন কেউ ছিল, যে নিঃশব্দে কালঘাম ছুটিয়ে ইনজেকশন ফুটিয়ে দিয়েছিল তাঁর শরীরে? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট না করে পুরো বিষয়টি ফরেন্সিক ও প্যাথলজি রিপোর্টের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় জটিলতা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে চরম উদ্বেগের মুখে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে গঠিত হয়েছে ৮ সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি, যার নেতৃত্বে রয়েছেন হাসপাতালের ফরেন্সিক মেডিসিনের প্রধান। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে হবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তার (DME) কাছে। আপাতত তদন্তকারীদের  চোখ ১২ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৩ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত গাইনি সিবি বিল্ডিংয়ের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ। ওই নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কে বা কারা অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ডে ঢুকেছিল বা বেরিয়েছিল, সেই উত্তর খুঁজছে পুলিশ।