নিউজপোল ব্যুরো: সোনিয়া গান্ধী কি সব আইন-কানুন বা নিয়ম-নীতি একেবারে ভুলেই গেছেন? ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতা দিবসের পুণ্যলগ্নে কংগ্রেস সদর দপ্তরে ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন চলাকালীন দলনেত্রীর একটি বিতর্কিত অঙ্গভঙ্গির ভিডিও সামনে আসতেই ঠিক এই প্রশ্নই আছড়ে পড়েছে দেশের রাজনৈতিক মহলে! জাতীয় গানের মতো এক চরম সংবেদনশীল মুহূর্তে সোনিয়া গান্ধী ও দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নিজেদের মধ্যে ইশারা করতে দেখা যায়। আর এই দৃশ্য ঘিরেই ‘জাতীয় গানের অবমাননা’ ও ‘ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি’-র মারাত্মক অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রীতিমতো ঝড় তুলেছে বিজেপি।
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে দেখে শনিবার আসরে নেমে চরম সাফাই দিয়েছে কংগ্রেস শিবির। হাত শিবিরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতীয় গানের অবমাননার যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে কংগ্রেসের দাবি, ওই সময় মঞ্চের পেছনে বেশ কিছু নড়াচড়া হচ্ছিল। দলের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে যথেষ্ট বয়স্ক মানুষ এবং তিনি দীর্ঘক্ষণ ধরে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বিক্ষোভ চলাকালীন খাড়গের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছিল। তাই সেই মুহূর্তে বয়স্ক সভাপতির জন্য দ্রুত একটি চেয়ারের ব্যবস্থা করার জন্যই ইশারা করছিলেন সোনিয়া গান্ধী। এর সঙ্গে ‘বন্দে মাতরম’ থামানো বা অসম্মান করার কোনো সম্পর্ক নেই। দল আরও জানায়, ঠিক সেই মুহূর্তেই গানটি বাজতে শুরু করেছিল এবং সোনিয়া গান্ধী নিজেও গানটিতে গলা মেলাচ্ছিলেন। তিনি শুধু নিশ্চিত করতে চাইছিলেন যে, প্রবীণ নেতার কোনো অসুবিধা হচ্ছে কি না!
তবে কংগ্রেসের এই ড্যামেজ কন্ট্রোল বা সাফাই মানতে একেবারেই নারাজ গেরুয়া শিবির। গুজরাট বিজেপির পক্ষ থেকে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলা হয়েছে, “ভোটব্যাঙ্কের নোংরা রাজনীতির তুষ্টিকরণের জন্যই কংগ্রেস আরও একবার বন্দে মাতরমকে প্রকাশ্যে অপমান করল। এই ঘটনা আবারও ওদের আসল মানসিকতা মানুষের সামনে প্রকাশ করে দিয়েছে।” বিজেপির প্রভাবশালী নেতা অমিত মালবীয় সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, কংগ্রেস নেতৃত্ব আসলে সদর দফতরে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশনা মাঝপথেই বন্ধ করার চেষ্টা করছিল।
