নিউজপোল ব্যুরো: একদিকে যখন ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর বিদ্রোহী শিবির নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, কিংবা দিল্লিতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ‘সোনিয়া গান্ধী কি সব আইন-কানুন ভুলে গেছেন?’—এই জাতীয় রাজনৈতিক তরজায় মেতে রয়েছে গোটা দেশ, ঠিক তখনই বাংলার বুকে নিঃশব্দে বিছানো হচ্ছিল এক সর্বনাশা জাল! রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই রাজ্য পুলিশের এসটিএফ (STF)-এর জালে ধরা পড়ল তিন-তিনটি ভয়ঙ্কর জঙ্গি মডিউল। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে এই পর্দাফাঁস দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিরও।
গোয়েন্দারা জানাচ্ছেন, বর্তমানে পাকিস্তান ও তাদের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই (ISI) সন্ত্রাসের ছক পুরোপুরি পাল্টে ফেলেছে। এখন আর ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পার করে এ দেশে জঙ্গি ঢোকানো হচ্ছে না। তার বদলে এ দেশের তরুণ-তরুণীদেরই মগজধোলাই করে স্লিপার সেল তৈরি করা হচ্ছে। সদ্য জালে পড়া তৃতীয় মডিউলটি ঠিক এই ‘মোডাস অপারেন্ডি’-তেই কাজ করছিল। এসটিএফ-এর হাতে ধরা পড়া ওই তিন যুবক চর হিসেবে কাজ করে ভারতীয় সিমকার্ড বাংলাদেশ হয়ে পাকিস্তানে পাচার করছিল। পাশাপাশি, এ দেশে জালনোটের কারবারও চালাত তারা। গোয়েন্দাদের চরম আশঙ্কা, পাচার হওয়া ওই ভারতীয় সিমকার্ডগুলো ব্যবহার করেই দেশের মাটিতে বড়সড় নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছিল পাকিস্তানে বসে।
এই তিন চরের ধরা পড়ার ঠিক আগেই, গত ১২ আগস্ট উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া থেকে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলম নামে এক পাক নাগরিককে গ্রেফতার করে এসটিএফ। সবচেয়ে মারাত্মক বিষয় হলো, দীর্ঘ ১৪ বছর আগে নেপাল সীমান্ত দিয়ে এ রাজ্যে ঢুকেছিল সে! বছরের পর বছর ধরে ভুয়া পরিচয়ে গা ঢাকা দিয়ে ভারতীয় রেল ও সেনাবাহিনীর অতি গোপনীয় তথ্য পাকিস্তানে পাচার করে আসছিল এই আইএসআই হ্যান্ডলার। ৩১ জুলাই এবং ১ আগস্ট বর্ধমানের রেনেসাঁ টাউনশিপ ও ঝাড়খণ্ড থেকে পাক জঙ্গি সংগঠন ‘শাহজাদ ভাট্টি গ্যাং’-এর সক্রিয় সদস্য হামিম মণ্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতার করা হয়। এই গ্যাং মূলত ভারতীয় যুবক-যুবতীদের মগজধোলাই করে দলে টানার কাজ করত। এসটিএফের লাগাতার জেরায় হামিম ও অর্পিতার কাছ থেকে এমন কিছু তথ্য মিলেছে, যা ঘুম উড়িয়েছে দিল্লির। জানা গিয়েছে, তাদের হিট লিস্টে বা নাশকতার টার্গেটে ছিল খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং দিল্লির একাধিক হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতা।
নেতাদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ছক, সেনার তথ্য পাচার থেকে শুরু করে সিমকার্ডের চোরাকারবার— মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে তিনটে বড়সড় জঙ্গি নেটওয়ার্কের পর্দাফাঁস বুঝিয়ে দিচ্ছে, বাংলার মাটিতে কতটা গভীরে শিকড় ছড়িয়েছে দেশবিরোধী শক্তিরা। জাল কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে এখন জোরদার তদন্তে নেমেছেন এসটিএফ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
