ISRO-র রিপোর্টে বড় ইঙ্গিত—অক্টোবর-ডিসেম্বরে উত্তর ভারত মহাসাগরে ৩ ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা

breakingnews আবহাওয়া কলকাতা দেশ

নিউজপোল ব্যুরো: বর্ষা বিদায়ের মুখে পুজোর গন্ধে যখন জমে উঠছে বেড়ানোর পরিকল্পনা, ঠিক তখনই আবহাওয়া নিয়ে সামনে এল নতুন তথ্য। ISRO-র Space Applications Centre-এর MOSDAC-এর সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে উত্তর ভারত মহাসাগরে প্রায় তিনটি ট্রপিক্যাল সাইক্লোন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু সংখ্যাই নয়, এই সময়ের সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের মোট শক্তির সূচকও গত ৪৪ বছরের গড়ের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

MOSDAC-এর হিসাবে, ২০২৬ সালের পোস্ট-মনসুন মরশুমে সম্ভাব্য তিনটি ঘূর্ণিঝড়ের Power Dissipation Index বা PDI হতে পারে প্রায় ১৩.০৬ × ১০⁶ knots³। গত ৪৪ বছরের গড় এই সূচক ৭.১৫ × ১০⁶ knots³। এখানে PDI-তে ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা, শক্তি এবং কতক্ষণ সেটি সক্রিয় থাকে—এই বিষয়গুলির হিসাব ধরা হয়। ফলে এই পূর্বাভাসকে শুধু ‘কতগুলি ঝড় হবে’ হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না।

তবে এর মানেই বাংলায় একের পর এক ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়বে, এমন নয়। একটি সিস্টেম কোথায় তৈরি হচ্ছে, কতটা শক্তিশালী হচ্ছে, কোন পথে এগোচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কোথায় স্থলভাগে ঢুকছে—তার উপর প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করে। আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কাও আগের একাধিক বিশ্লেষণে বলেছেন, কোনও ঝড় সরাসরি পশ্চিমবঙ্গে না এলেও তার বাইরের মেঘ, আর্দ্রতা ও বাতাসের প্রভাবে বাংলার আবহাওয়া বদলাতে পারে।

ধরা যাক, কোনও সিস্টেম ওড়িশা বা অন্ধ্র উপকূলের দিকে গেল। তবুও তার প্রভাবে উত্তরবঙ্গ বা দক্ষিণবঙ্গের কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। পাহাড়ে গেলে ধস, রাস্তা বন্ধ বা নদীর জল বাড়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে দিঘা, মন্দারমণি-সহ উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনাও নজরে রাখতে হয়।

তাই পুজোর পর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়ানোর পরিকল্পনা পুরোপুরি বাতিল করার মতো কোনও পূর্বাভাস এখন নেই। বরং ভ্রমণের আগে IMD ও স্থানীয় প্রশাসনের আপডেট দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াই জরুরি। ISRO-র এই তথ্যটি দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস; সময় যত এগোবে, নির্দিষ্ট কোনও সিস্টেম তৈরি হলে তার গতিপথ ও সম্ভাব্য প্রভাব আরও পরিষ্কার হবে।