পুজোর ‘ভুয়ো পাস’ থেকে ৫০-৬০ কোটির অভিযোগ! ইডির জেরায় ইন্দ্রনীল সেন—UNESCO-র নাম-লোগো ব্যবহার ঘিরে বিস্ফোরক তদন্ত

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: একসময় গানের মঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে নিয়মিত দেখা যেত ইন্দ্রনীল সেনকে। রাজনীতির ময়দানেও সক্রিয় ছিলেন। সেই ইন্দ্রনীল সেনই এখন ইডির জেরার মুখে। দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ও পুজো পরিক্রমার পাস বিক্রিতে UNESCO-র নাম ও লোগো ব্যবহার করে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার একাধিক ঠিকানায় তল্লাশির পর বুধবার সল্টলেকের CGO কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজির হন প্রাক্তন মন্ত্রী।

অভিযোগের তদন্তে এখন সামনে আসছে ইন্দ্রনীল ও তাঁর পরিবারের সম্পত্তির হিসাবও। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ইন্দ্রনীলের মোট ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ছিল প্রায় ৯ কোটি ৮৯ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৬১ লক্ষ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা।

হলফনামায় গড়িয়াহাট ও কসবায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। কসবায় একটি সম্পত্তির ঘোষিত বাজারমূল্যই প্রায় ৪ কোটি ৪৩ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি ব্যাঙ্কে টাকা, বিমা, গাড়ি এবং অন্যান্য বিনিয়োগও রয়েছে।

শুধু ইন্দ্রনীল নন, হলফনামায় তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের নামেও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির উল্লেখ রয়েছে। সিঙ্গুরে তাঁর নামে জমিও রয়েছে, যার ঘোষিত বর্তমান বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬৪.৬৫ লক্ষ টাকা।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই হিসাব ২০২১ সালের হলফনামার। তাই বর্তমানে তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ ঠিক কত, তা এই নথি থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। এদিকে UNESCO-র নাম ব্যবহার করে পাস বিক্রি এবং প্রায় ৫০-৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। ইন্দ্রনীল সেন তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তিনি আইনি পদক্ষেপের কথাও বলেছেন।