Mithun Chakraborty:‘আমি সতিমন্ত্রী! প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা নেই’, আয়ুষ্মান ভারত মঞ্চে রসিক মিঠুন!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:মঞ্চ জুড়ে একঝাঁক মন্ত্রী, প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট অতিথি। তাঁদের মাঝেই আসন গ্রহণ করেছেন ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। মাইক্রোফোন হাতে নিয়েই স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায় জমিয়ে দিলেন অনুষ্ঠান। মঞ্চে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ভিড় দেখে নিজেকে নিয়ে মিঠুনের কৌতুক, “এত সব মন্ত্রী আর প্রতিমন্ত্রীর ভিড়ে ভাবছিলাম আমি কে? নিজেকেই প্রশ্ন করলাম। জবাব পেলাম—আমি ‘সতিমন্ত্রী’! প্রতিমন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।”

আরও পড়ুন:Dilip Ghosh:‘দাগিদের হাতেই সাংসদ-বিধায়কের ক্ষমতা’ বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ!

রবিবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনা এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আনুষ্ঠানিক সূচনা অনুষ্ঠানে এভাবেই বক্তব্যের শুরুতেই হাসির রোল তোলেন অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। মঞ্চে উপস্থিত শুভেন্দু অধিকারীকে ‘সবচেয়ে প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী’ বলেও সম্বোধন করেন তিনি।

আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জনসচেতনতা তৈরির চেষ্টা করেছেন বলে দাবি মিঠুনের। তাঁর কথায়, বিভিন্ন সভায় গিয়ে তিনি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরির জন্য উৎসাহিত করেছেন। সেই সময় সাধারণ মানুষের একাংশের বক্তব্য ছিল, রাজ্যে এই প্রকল্প কার্যকর না হওয়ায় কার্ড তৈরি করেও কী লাভ! মিঠুনের দাবি, তিনি তাঁদের বিকল্প পথের কথাও জানিয়েছিলেন। এমনকি বহু জায়গায় নিজে উপস্থিত থেকে মানুষকে কার্ড তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বলেও জানান তিনি।

রাজ্যে শেষ পর্যন্ত আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সূচনা হওয়ায় নিজের সন্তোষের কথাও প্রকাশ করেন মিঠুন। তবে গুরুগম্ভীর বক্তব্যের মাঝেও নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতা থেকে বিরত থাকেননি তিনি। দর্শকদের উদ্দেশে তাঁর মন্তব্য, “আমার এই সব ভাল ভাল কথা কি আর আপনাদের ভাল লাগছে? আপনারা তো মুখিয়ে বসে আছেন কখন দাদা ডায়লগ মারবে!”

এরপরই আসে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। ডায়লগ বলবেন না বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত নিজেকে আটকাতে পারেননি মিঠুন। মঞ্চ কাঁপিয়ে তাঁর সেই বহুলচর্চিত সংলাপ, “আমি জলঢোড়াও নই, বেলেবোড়াও নই… আমি জাত গোখরো! এক ছোবলে ছবি!” সংলাপের পরই হাততালিতে মুখর হয়ে ওঠে সভাগৃহ। পুরনো সেই সংলাপের সূত্র টেনে মিঠুন জানান, এই সংলাপ বলার কারণেই অতীতে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। তাই এবার আরও জোরে বললেন বলেও রসিকতা করেন তিনি।

এদিকে, রবিবার থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। একই সঙ্গে চালু হল মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনাও। সরকারের দাবি, দুই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার পরিধিতে আনা হবে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

অনুষ্ঠানে রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ কোটি ৪৩ লক্ষ পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৬ কোটি মানুষ চিকিৎসা পরিষেবার সুযোগ পাবেন। প্রতি পরিবার বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা পাবে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ লক্ষ পরিবার প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় থাকবে। নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কারণে যারা আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসতে পারবেন না, তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা চালু করা হয়েছে।

সরকারের দাবি, এই দুই প্রকল্পের সুবিধা শুধু রাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তালিকাভুক্ত হাসপাতালেও চিকিৎসার সুযোগ পাবেন উপভোক্তারা। রাজ্যে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক হাসপাতালে এই পরিষেবা কার্যকর হবে। পাশাপাশি দেশজুড়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৬০৪টি হাসপাতালে দুই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার আওতায় চিকিৎসার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি। পূর্ববর্তী স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে যেখানে প্রায় ১,৭০০টি রোগের চিকিৎসা অন্তর্ভুক্ত ছিল, সেখানে আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় সেই সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ১,৯৫০ করা হয়েছে। হাঁটু ও কোমরের জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের মতো চিকিৎসাও কার্ডের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এতদিন রাজ্যের প্রায় সাড়ে ৭ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় ছিলেন। নতুন ব্যবস্থায় প্রায় ৬ কোটি মানুষ আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আসবেন এবং বাকিদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার কার্ড কার্যকর হলে একই ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে বহাল থাকবে না।

স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি সস্তায় ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ওষুধ পৌঁছে দিতে রাজ্যে ৪৫৮টি জনঔষধি কেন্দ্র চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০০টি অমৃত ফার্মেসি খোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অনুপ্রিয়া পটেল, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং মিঠুন চক্রবর্তী-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। আয়ুষ্মান দিবসের মঞ্চে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সূচনার পাশাপাশি মিঠুনের রসিকতা ও বহুচর্চিত সংলাপেই কার্যত আলাদা মাত্রা পেল অনুষ্ঠান।