Dilip Ghosh:‘দাগিদের হাতেই সাংসদ-বিধায়কের ক্ষমতা’ বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ!

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো:প্রতিদিনের রুটিন মেনেই রবিবার সকালে মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে চেনা মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর সেখান থেকেই রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। সায়গল হোসেনের গ্রেফতারি থেকে শুরু করে নদিয়ার হিংসা, কলকাতায় পুজো বন্ধের আশঙ্কা, দিল্লিতে আন্দোলনকারীকে ঘিরে খুনের অভিযোগ, জনগণনা এবং শহরের বিপজ্জনক পুরনো বাড়ি—বিভিন্ন প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হন দিলীপ।

আরও পড়ুন:Mamata Banerjee:রাজনীতির বিষ ধীরে ধীরে শেষ করে দিল’, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে গভীর শোকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

সায়গল হোসেনের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারের দিকে সরাসরি আঙুল তোলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকার সময় একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল। সেই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ‘হ্যান্ডলার’ বিভিন্ন যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করে দিয়ে গোটা ব্যবস্থাকে পরিচালনা করত বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তদন্তের পরিধি কেবল সামনে থাকা ব্যক্তিদের গ্রেফতারির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এই ব্যবস্থার নেপথ্যে থাকা মূল ব্যক্তিদের কাছে তদন্তকারীরা পৌঁছতে পারলেই গোটা চক্রের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। দিলীপের দাবি, তদন্ত সেই অভিমুখেই এগোচ্ছে এবং আগামী দিনে এই ঘটনায় আরও গ্রেফতারির সম্ভাবনা রয়েছে।

নদিয়ায় একের পর এক খুন ও হিংসার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দিলীপের স্পষ্ট বক্তব্য, কোনও পরিস্থিতিতেই রাজনৈতিক বা সামাজিক হিংসাকে প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও প্রশাসনকে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ করতে হবে। যথাযথ সময়ে এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কলকাতায় পুজো বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার প্রসঙ্গেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, পুজো আয়োজনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের পুলিশের অনুমতি নিতে হয় এবং প্রশাসনেরই তাঁদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা। কোনও এলাকায় স্থানীয় কোনও সমস্যা দেখা দিলে তা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উচিত বলে মত তাঁর। একইসঙ্গে দিলীপের দাবি, যে পুজোগুলি বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে, সেগুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি কোনওভাবেই তৈরি হওয়া উচিত নয়।

দিল্লিতে এক আন্দোলনকারীর বাবাকে খুনের অভিযোগ নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ উঠলে প্রশাসনের প্রথম দায়িত্ব হল নিরপেক্ষভাবে তার তদন্ত করা। তদন্তে যারা দোষী সাব্যস্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণনা প্রসঙ্গেও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন দিলীপ। তাঁর দাবি, গত ১ অগস্ট থেকেই সেল্ফ এনুমারেশনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যাঁরা অনলাইনে অথবা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিজেদের তথ্য জমা দিয়েছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট ৩১টি প্রশ্নের উত্তরও নথিভুক্ত করার কথা বলে জানান তিনি।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@thenewspole

এদিকে কলকাতার ডেকার্স লেনে পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনাকে শহরের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে এখনও বহু জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি রয়েছে, যেখানে বিপদের আশঙ্কা নিয়েই বসবাস করছেন মানুষ। বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা বাড়ি ছাড়তে অনিচ্ছুক বলে দাবি করেন তিনি। বিশেষ করে বর্ষাকালে পুরনো ও দুর্বল বাড়িগুলির কাঠামোগত ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটার পর পদক্ষেপ না করে পুরসভাকে আগেভাগেই বিপজ্জনক বাড়িগুলি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন দিলীপ। তাঁর মতে, শহরের নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের আরও সতর্ক ও সক্রিয় হওয়া জরুরি।