TMC Protest:ভাষা ও জাতিসত্তা নিয়ে চরম অপমানের বিরুদ্ধে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ!সোমবার বোলপুর মিছিলে নেতৃত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

রাজনীতি রাজ্য

ভিনরাজ্যে বাংলাভাষীদের উপর একের পর এক আক্রমণ ও ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে অপমানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে বাংলা। সেই প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে বীরভূমের নানুর। যেখানে ২৫ বছর আগে সিপিএম সন্ত্রাসে রক্ত ঝরেছিল খেতমজুরদের, সেখান থেকেই এবার বিজেপির বিরুদ্ধে নতুন ভাষা আন্দোলনের সূচনা করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Protest)।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/07/27/modi-birth-claim-kalyan-pushback-attack/

রবিবার ‘নানুর দিবস’-এ ভাষা সুরক্ষার বার্তা নিয়ে মঞ্চে উঠে ফিরহাদ হাকিম বলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বললেই কেউ বাংলাদেশি হয়ে যায় না। যারা এই অপবাদ দিচ্ছে, তারা বাংলার শত্রু।” তিনি বিজেপিকে সিপিএমের উত্তরসূরি হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, “একদা যারা রক্ত ঝরিয়েছিল, আজ তারা ইতিহাস। বিজেপিও সেই পথেই চলছে। বাংলায় অস্তিত্ব নেই বলেই হিংস্র হয়েছে।”

নানুর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের প্রায় প্রতিটি জেলায়। কলকাতা, হাওড়া, নদিয়া, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, এমনকি উত্তরবঙ্গেও বর্ণমালা হাতে মিছিলে হাঁটলেন হাজার হাজার মানুষ। কেউ বুকে টানলেন রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের ছবি, কেউ গলা মেলালেন— “বাংলা ভাষা মানে বাংলাদেশি নয়।”

কলকাতার ধর্মতলায় যুব তৃণমূল সভানেত্রী সায়নী ঘোষ বলেন, “ভাষার অপমান গোটা জাতির অপমান। আমরা তা বরদাস্ত করব না।” পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীর হুঁশিয়ারি, “বাংলার শ্রমিকদের যেভাবে অপমান করা হচ্ছে, তাতে বাংলা আর চুপ থাকবে না।”

এই প্রতিবাদের চূড়ান্ত রূপ পাবে সোমবার, যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বোলপুর থেকে ভাষা রক্ষার ঐতিহাসিক মিছিলের নেতৃত্ব দেবেন। কবিগুরুর মূর্তিতে মাল্যদান করে শুরু হবে সেই মিছিল।

এরই মধ্যে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাংলা ভাষাভাষীদের উপর হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে। কোথাও বাংলার শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো হয়েছে, কোথাও ডিটেনশন নোটিশ ধরানো হয়েছে একজন ভারতীয় নাগরিককে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার (TMC Protest) বিশেষ অধিবেশনের কথা ভাবছে, যেখানে ভাষা ও জাতিসত্তা রক্ষার প্রস্তাব গৃহীত হতে পারে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

একটাই বার্তা স্পষ্ট— বাংলা ভাষা কোনও বিদেশি নয়, এটি এক জাতির আত্মপরিচয়। এই লড়াই রাজনীতির নয়, এটি বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াই। আর বাংলা একসঙ্গে বলছে— “ভাষার অপমান মানি না, বাংলার সম্মান ভাঙতে দেব না।”