নিউজ পোল ব্যুরো:ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) আবারও নিজের দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, প্রথম থেকেই দল ঘোষণা করেছিল, এসআইআর মানা হবে না, কিন্তু রাজ্যজুড়ে কাজ চলছে। হুমায়ুন জানান, “বিএলওরা তো রাজ্য সরকারের কর্মচারী। একজন ভোটারের নাম দু’জায়গায় থাকা ক্ষতি নয়। কিন্তু বিজেপি মানুষদের ভয় দেখাচ্ছে, ‘বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেব’ বলে।”
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/30/tmc-criticizes-election-commission-over-sir-delay/
তিনি রাজ্যের ওয়াকফ নীতির উলটপুরাণকেও তীব্র সমালোচনা করেছেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে (Humayun Kabir) বলেছেন, “কিছু বিএলআরও হঠাৎ মুসলিমদের সম্পত্তি সরকারি জমিতে রূপান্তর করছেন। সংখ্যালঘুদের নিজেদের সচেতন থাকতে হবে, সংগ্রাম-সংঘর্ষের মাধ্যমে সম্পত্তি রক্ষা করতে হবে। মুসলিমদের সম্পত্তিতে হাত দেওয়া যাবে না।”
সংশোধিত ওয়াকফ আইন নিয়ে তৃণমূল সর্বদাই বিরোধী থাকলেও, রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে সব জেলাশাসককে নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওয়াকফ সম্পত্তির বিবরণ ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে।
বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে দ্বিচারিতা আখ্যায়িত করেছেন। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছিলেন, ওয়াকফ আইন লাগু হবে না। কিন্তু বাস্তবে সবচেয়ে বেশি সম্পত্তি চুরি হয়েছে।” আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিও একই অভিযোগ করেছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
হুমায়ুন কবীর এর আগে একাধিক ইস্যুতে দলের শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন। শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির শোকজের পর কিছুদিন সুর নরম করেছিলেন। এবারও তাঁর হুঁঙ্কার নিয়ে বিরোধীরা খুব একটা গুরুত্ব দিতে চান না। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “তিনি মাঝেমধ্যে নিজের দলকেই কাঠগড়ায় তোলেন, আবার নিজেই সেখানে উঠে যান। সত্যিই মুসলিম হলে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করা উচিত।”
নতুন এই বিতর্ক আবারও তুলে ধরেছে রাজ্য সরকারের নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে বিরোধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি ও আইনি সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। অনেকে মনে করছেন, রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে নীতি প্রয়োগে দ্বিচারিতা এবং অস্পষ্টতা সৃষ্টি হচ্ছে।
রাজ্য ও কেন্দ্রের নীতির মধ্যে এই টানাপোড়েন কেমনভাবে সমাধান হয় এবং ভবিষ্যতে মুসলিম সম্পত্তির নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত হয়, তা নাগরিক সমাজের নজরেই থাকবে।
