নিউজ পোল ব্যুরো:পশ্চিমবঙ্গে এসআইআরের কাজ শেষ করার জন্য মাত্র দুই মাসের সময় নির্ধারণের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। শাসকদলের দাবি, এত অল্প সময়ে কাজ করতে গিয়ে ভুলভ্রান্তির আশঙ্কা বেড়ে যায় এবং মাঠপর্যায়ের কর্মী, বিশেষ করে বিএলওদের উপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। বারবার এই যুক্তি তুলে ধরলেও নির্বাচন কমিশন শুরুতে তা না শোনায়। রবিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission criticism) আংশিকভাবে তৃণমূলের দাবি মেনে নিয়ে বাংলাসহ ১২ রাজ্যে ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন ৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১১ ডিসেম্বর করা হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ৯ ডিসেম্বরের বদলে ১৬ ডিসেম্বর এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের তারিখও পরিবর্তিত হয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/30/winter-session-2025-14-important-bills-indian-parliament/
সময়সীমা বৃদ্ধিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বিএলওদের মধ্যে, তবে তৃণমূল এখনও কমিশনের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। রবিবার বিকেলে তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং সাংসদ পার্থ ভৌমিক কমিশনের কার্যক্রমকে একহাত নেন। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “তৃণমূল এসআইআরের বিরোধী নয়, পদ্ধতির বিরোধী। আমরা বারবার বলেছি, এই কাজ দুই মাসে করা সম্ভব নয়। আজ কমিশন যখন সময়সীমা বাড়িয়েছে, তা প্রমাণ করে আমরা সঠিক ছিলাম। কিন্তু তাড়াহুড়ো করে কাজ করতে গিয়ে অথবা ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় যে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার দায় কে নেবে?” তিনি আরও বলেন, “কমিশন যদি আগে আমাদের কথাগুলো শুনত, এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। সময়সীমা বাড়ানো মানে কাজ সহজ হয়েছে, কিন্তু পূর্বের বিশৃঙ্খলা এবং চাপের দায় এখনও কার।”
সাংসদ পার্থ ভৌমিক আরও সরাসরি নিশানা করেছেন বিজেপিকে। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি কমিশন স্বতঃসিদ্ধভাবে কাজ করছে না, বরং কেন্দ্রের শাসকদলের প্রভাবাধীন। নাহলে এত দ্রুত ভোটমুখী রাজ্যগুলিতে এসআইআর কেন? কেন বিএলওদের ওপর এত চাপ? বাংলাতেই কেন দিল্লি থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠানো হলো?”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
তৃণমূলের বক্তব্য অনুযায়ী, সময়সীমা বৃদ্ধিতে তাদের যুক্তি প্রমাণিত হয়েছে। তবে তারা দাবি করছে, কমিশনের (Election Commission criticism) অযাচিত তাড়াহুড়ো এবং চাপের কারণে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে এবং যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, তার দায় কমিশনকে নিতে হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধুই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয় নয়, বরং নির্বাচনের প্রক্রিয়া ও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার সঙ্গে জড়িত একটি সংবেদনশীল বিষয়। সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কিছুটা শান্তি এনে দিলেও, ভোটার তালিকা প্রক্রিয়ার চাপ ও তাড়াহুড়োয় ঘটে যাওয়া প্রাণহানির ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী বিতর্কের জন্ম দেবে বলেই মনে করছেন তারা।
