সল্টলেকের গেস্ট হাউসে তরুণীকে ‘ধর্ষণ’! মুম্বইয়ে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হলো না বীরভূমের পুলিশ অফিসারের!

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: সল্টলেকের একটি গেস্ট হাউসে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বীরভূমের নলহাটি থানার এক সাব-ইন্সপেক্টরকে মুম্বই থেকে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ। দীর্ঘ সময় তাঁর খোঁজ না মেলার পর গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুম্বইয়ে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত মাসে। অভিযোগকারী তরুণী বিধাননগর পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, সল্টলেকের সিএল ব্লকের একটি গেস্ট হাউসে তাঁকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন ওই পুলিশ আধিকারিক। অভিযোগ জমা পড়ার পরেই ঘটনার তদন্ত শুরু করে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ। তদন্ত চলাকালীন পুলিশ জানতে পারে, ওই মামলায় অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টর আগেই জামিন পেয়েছিলেন। এরপর তাঁর অবস্থান জানতে বীরভূম জেলা পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু কিছু সময়ের মধ্যে অভিযুক্তের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলেই তদন্তকারীদের দাবি। পুলিশের ধারণা, গ্রেপ্তার এড়াতেই তিনি অন্যত্র চলে গিয়েছিলেন।

এরপর তদন্তে নতুন মোড় আসে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত মুম্বইয়ে রয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে একটি দল মুম্বইয়ে পৌঁছে অভিযান চালায়। সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।গ্রেপ্তারের পর অভিযুক্তকে ট্রানজিট রিমান্ডে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে বিধাননগর আদালতে হাজির করানো হয়। তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় পুলিশ মহলেও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। একজন কর্মরত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেটাই দেখার। তদন্তকারীরা গেস্ট হাউসের তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখছেন বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা ও অভিযুক্তের দায় প্রমাণের বিষয়টি বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর।