নিউজপোল ব্যুরো: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন উঠল সুপ্রিম কোর্টে। ফাঁসির বদলে আরও কম যন্ত্রণাদায়ক কোনও পদ্ধতি চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে করা আবেদনের শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত বর্তমান ব্যবস্থার দিকেই আস্থা রাখার কথা জানিয়েছে। ফলে আপাতত মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে প্রচলিত ফাঁসির পদ্ধতিই বহাল থাকছে।
মৃত্যুদণ্ড নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। একদিকে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির দাবি রয়েছে, অন্যদিকে মানবাধিকার এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় বন্দির শারীরিক কষ্টের বিষয়টিও বারবার আলোচনায় এসেছে। সেই জায়গা থেকেই ফাঁসির পরিবর্তে বিকল্প কোনও পদ্ধতি ব্যবহারের দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল আবেদনকারী পক্ষ।আবেদনে মূলত প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাজা কার্যকর করার ক্ষেত্রে এমন কোনও পদ্ধতি কি ব্যবহার করা সম্ভব, যাতে অপ্রয়োজনীয় যন্ত্রণা কম হয়। এ ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, ইলেকট্রিক চেয়ার কিংবা বিষাক্ত গ্যাসের মতো কয়েকটি বিকল্প পদ্ধতির প্রসঙ্গও সামনে আসে। আবেদনকারীদের যুক্তি ছিল, আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিও নতুন করে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তবে শুনানির পর দেশের বর্তমান আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর বিষয়টি সামনে রেখে ফাঁসির প্রচলিত পদ্ধতিই কার্যকর রাখার অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। অর্থাৎ, মৃত্যুদণ্ডের সাজা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে বর্তমানে যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়, সেই ব্যবস্থাতেই কোনও তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হচ্ছে না। ভারতীয় আইনে মৃত্যুদণ্ড কোনও সাধারণ শাস্তি নয়। অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে, সব দিক বিচার করে কেবল ‘বিরল থেকে বিরলতম’ পরিস্থিতিতেই আদালত মৃত্যুদণ্ড দিতে পারে। তার উপর নিম্ন আদালতের রায়ই শেষ কথা নয়। মামলার পরবর্তী আইনি ধাপ এবং সর্বোচ্চ আদালতে বিচারপ্রক্রিয়ার পরেই সাজা কার্যকরের বিষয়টি সামনে আসে।
এই মামলাকে ঘিরে তাই ফের সামনে এসেছে একটি পুরনো প্রশ্ন—অপরাধ যতই গুরুতর হোক, রাষ্ট্র যখন কারও জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়, সেই প্রক্রিয়াটি কতটা মানবিক হওয়া উচিত? একদিকে রয়েছে ন্যায়বিচার ও শাস্তির দাবি, অন্যদিকে রয়েছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।
সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থানের ফলে আপাতত দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচলিত পদ্ধতিতে কোনও বড় পরিবর্তন হচ্ছে না। তবে ভবিষ্যতে প্রযুক্তি, মানবাধিকার এবং আইনি নীতির পরিবর্তনের সঙ্গে এই বিতর্ক নতুন করে আদালতের দরজায় ফিরে আসতে পারে বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।
