নিউজপোল ব্যুরো: স্বামীজি নগর এলাকায় রাস্তার ধারে বস্তা দিয়ে ঢাকা অবস্থায় এক যুবকের দেহ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রথমে বিষয়টি ঠিক কী, তা বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। খবর পৌঁছতেই ঘটনাস্থলে আসে ইকো পার্ক থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক যুবককে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই শুরু হয়েছে মৃত্যুর নেপথ্যের রহস্য খোঁজার কাজ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম সৌরভ বিশ্বাস। বয়স আনুমানিক ৩২ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তবে তিনি কোথায় থাকতেন এবং তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাপন কেমন ছিল, সেই সব তথ্য এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে, সৌরভের মুখে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর দেহের বিভিন্ন জায়গায় ট্যাটুও রয়েছে। দেহটি বস্তা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তদন্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—সৌরভের মৃত্যু কোথায় হয়েছিল? পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, ঘটনাস্থলেই খুন করা হয়নি। অন্য কোনও জায়গায় তাঁকে হত্যা করার পর প্রমাণ গোপন করার উদ্দেশ্যে দেহটি নিউ টাউনের স্বামীজি নগর এলাকায় এনে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যেই তদন্তে নতুন মোড় এনেছে এলাকার একটি CCTV ফুটেজ। সেই ফুটেজে এক ব্যক্তিকে কাঁধে করে একটি দেহের মতো কিছু বহন করে ঘটনাস্থলের দিকে আসতে দেখা গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পরে সেই বস্তুটি সেখানে ফেলে দিয়ে ওই ব্যক্তি চলে যায় বলেও অভিযোগ। ফুটেজে দেখা যাওয়া ব্যক্তির পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করেছে তদন্তকারীরা। সেটি সত্যিই সৌরভ বিশ্বাসের দেহ কি না, তাও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।
কে বা কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও কারণ—সব দিকই খোলা রেখে তদন্ত চলছে। মৃত যুবকের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পুলিশ। মোবাইল ফোন, গত কয়েক দিনের গতিবিধি এবং পরিচিতদের তালিকাও খতিয়ে দেখা হতে পারে। নিউ টাউনের ব্যস্ত শহুরে এলাকার মধ্যে এমন রহস্যজনক দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এখন CCTV-র সেই অজ্ঞাত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা গেলেই এই মৃত্যুর রহস্যের জট অনেকটাই খুলতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল।
