মৃত্যুমিছিলের পর মেগা অ্যাকশন! ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে ১৬টি হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধের চূড়ান্ত নির্দেশ দমকলের

breakingnews অপরাধ আইন কলকাতা

নিউজপোল ব্যুরো: নয়-নয়টি তাজা প্রাণ আগুনের লেলিহান শিখায় অঙ্গার হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে ঘুম ভাঙল প্রশাসনের! ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলের সেই রক্তহিম করা ট্র্যাজেডির পর এবার খাস কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় শুরু হলো এক নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান। দমকলের সদর দপ্তর থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে কীভাবে এমন মারণ-ফাঁদ গজিয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে যখন রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, ঠিক তখনই একযোগে রাজপথে নেমে এলো দমকল ও পুরপ্রশাসন। আর এই ঝটিকা অভিযানের খবর সামনে আসতেই কার্যত থরথর করে কাঁপছে ফায়ার সেফটি না থাকা বেআইনি হোটেল ও রেস্তোরাঁ মালিকরা!

ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এবার সরাসরি বুলডোজার চালানো সিদ্ধান্ত নিল দমকল কর্তৃপক্ষ। অগ্নি-সুরক্ষা বিধি বুড়ো আঙুল দেখানোর অপরাধে একধাক্কায় ১৬টি হোটেল ও রেস্তোরাঁকে অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার চরম নির্দেশ জারি করা হয়েছে। কেবল তা-ই নয়, বিপজ্জনক অবস্থায় চালানো আরও ২৫টি নামী-বেনামী হোটেল-রেস্তোরাঁকে ধরানো হয়েছে শো-কজ নোটিস। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে জবাব— কেন নিয়ম না মেনে মানুষের জীবন নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলাপ? গত বুধ ও বৃহস্পতিবার যে সমস্ত গেস্ট হাউসকে নোটিস দেওয়া হয়েছিল, এবার সেগুলিকেও সম্পূর্ণ খালি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খাস কলকাতার গণ্ডি ছাড়িয়ে এই নজিরবিহীন কড়াকড়ির আঁচ পৌঁছে গিয়েছে কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, বর্ধমান ও দুর্গাপুরের মতো জেলাগুলিতেও। সেখানেও মোট ২৯টি হোটেলকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে দমকলের জরুরি নোটিস।

অন্যদিকে, কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় চলল গভীর রাতের থ্রিলারে ভরা ঝটিকা সফর! এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মার্কুইস স্ট্রিটের একাধিক হোটেলে আচমকা হানা দিয়ে অগ্নি-সুরক্ষা না থাকার অপরাধে ৬টি হোটেল মুহূর্তের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি। এরপরই মন্ত্রীর কড়া নির্দেশে কাঁপন ধরে মেদিনীপুর শহরে। মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাতভর হোটেল, লজ ও রেস্তোরাঁগুলিতে হাড়হিম তল্লাশি চালায় দমকলবাহিনী। সেখানেও ক্ষান্ত না হয়ে মাঝরাতে মন্ত্রী নিজেই আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে মেদিনীপুরের ২টি হোটেল এবং ১টি বিশাল শপিং মল সরাসরি সিল করার হুকুম দেন