নিউজপোল ব্যুরো: দুর্গাপুজোর ঢাক বাজতে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই কলকাতার অন্যতম প্রাণের জায়গা কুমোরটুলি পেতে চলেছে একেবারে নতুন চেহারা। শুধু প্রতিমা গড়ার আঁতুড়ঘর হিসেবেই নয়, এবার কুমোরটুলিকে সারা বছরের বড় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখেই নতুন করে সাজানো হচ্ছে কুমোরটুলি ঘাট থেকে চম্পাতলা ঘাট পর্যন্ত গঙ্গার পাড়ের বিস্তীর্ণ অংশ। জোরকদমে চলছে সৌন্দর্যায়নের কাজ।
এই প্রকল্পে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী পোর্ট এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে বদলে দেওয়া হচ্ছে এলাকার চেহারা। জানা গিয়েছে, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে নতুন রিভারফ্রন্ট। কুমোরটুলি থেকে চম্পাতলা ঘাট পর্যন্ত হুগলি নদীর প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা আধুনিকভাবে সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে সেপ্টেম্বরেই এই নতুন ঘাটের উদ্বোধন হতে পারে।
নতুন প্রকল্পে থাকছে প্রশস্ত হাঁটার পথ, সবুজে ঘেরা পার্কের পরিবেশ এবং দর্শনার্থীদের বসার জন্য আধুনিক জায়গা। নদীর ধারে সময় কাটানোর পাশাপাশি বোটিংয়ের ব্যবস্থাও গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, পুজোর সময়ে শুধু প্রতিমা দেখতে আসা নয়, সারা বছরই পর্যটকদের কাছে কুমোরটুলি হয়ে উঠতে পারে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্র।
খাবারপ্রেমীদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। তৈরি হওয়ার কথা ফুড পার্ক। পাশাপাশি কুমোরটুলির শতাব্দীপ্রাচীন মৃৎশিল্পের ইতিহাস ও শিল্পীদের কাজ তুলে ধরতে তৈরি হতে পারে বিশেষ প্রদর্শনশালা বা এগজিবিশন গ্যালারি। ফলে দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকরা শুধু প্রতিমা তৈরির কারিগরি দেখবেন না, কুমোরটুলির শিল্প-ঐতিহ্য সম্পর্কেও বিস্তারিত জানার সুযোগ পাবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আধুনিকীকরণের নামে এলাকার পুরনো ঐতিহ্য নষ্ট করা হবে না বলেই পরিকল্পনা। কুমোরটুলির প্রাচীন মন্দির, ঐতিহাসিক কাঠামো এবং পুরনো বাড়িগুলির স্বতন্ত্র চরিত্র বজায় রেখেই নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে গোটা এলাকা। কলকাতার হেরিটেজ ট্যুরিজমকে আরও শক্তিশালী করাই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।
এই উদ্যোগের ফলে কুমোরটুলির ৩০০-র বেশি মৃৎশিল্পীও উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। দুর্গাপুজোর কয়েক মাসের ব্যস্ততার গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁদের শিল্পকর্ম সারা বছর পর্যটকদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। স্থানীয় শিল্পীদের কাছে তাই এই প্রকল্প নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।
